বাংলাদেশের আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম গভীর মন্দার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বুকিং বাতিলের ঢেউ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ সুদের হার এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা খাতটির খেলাপি ঋণের হার প্রায় ২৭ শতাংশে ঠেলে দিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকট ডেভেলপারদের নগদ প্রবাহকে সংকুচিত করছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন থমকে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে সংশ্লিষ্ট ডজনখানেক শিল্পে। ডেভেলপারদের মতে, বুকিং বাতিলের প্রধান কারণ হলো অনেক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ আয়ের ক্রেতা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন অথবা অপেক্ষা করে দেখার কৌশল নিয়েছেন। হঠাৎ এই চাহিদা কমে যাওয়ায় সেই অগ্রিম অর্থনির্ভর মডেল ভেঙে পড়েছে, যার ওপর নির্ভর করেই অনেক ডেভেলপার প্রকল্প অর্থায়ন করতেন। একই সময়ে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতসহ বৈশ্বিক ধাক্কায় ইস্পাত, সিমেন্ট ও জ্বালানির মতো প্রধান নির্মাণ উপকরণগুলোর দাম বেড়েছে, যা ডেভেলপারদের ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক চাপে পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট। ২০২৫ সালে রিয়েল এস্টেট খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। এটি ডেভেলপারদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের প্রতিফলন। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বিক্রি কমে যাওয়া এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ও ছোট উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানই ব্যাংক ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। গত দুই বছরে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আবাসন খাতের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় মোট বিক্রি ৩০-৩৫ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ঢাকায় মাঝারি মানের অ্যাপার্টমেন্টের বুকিং বছরওয়ারি ২০-২৫ শতাংশ কমেছে, আর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের বিক্রি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অনেক ডেভেলপারের ক্ষেত্রে মাসিক বিক্রি পাঁচ থেকে আট ইউনিট থেকে নেমে এসেছে মাত্র এক বা দুই ইউনিটে।
3:22 am, Friday, 31 July 2026
শিরোনাম :


















