12:50 am, Thursday, 30 July 2026

কে এই ডেভিড ইমন, কেন তাকে নিয়ে এতো আতঙ্ক

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:42:23 pm, Wednesday, 29 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

হাতে কয়েক লাখ টাকার দামি ঘড়ি। চলাফেরায় আভিজাত্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার লাখের বেশি অনুসারী। বাইরে থেকে দেখলে যে কারো মনে হতে পারে ভারতের দক্ষিণী সিনেমার নায়ক। অথচ চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করেননি- বলছি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কথা। কথিত আছে চকচকে চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ভয়ংকর সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এক কথায় পুরো চট্টগ্রামে অপরাধ জগতের আতঙ্ক এই ডেভিড ইমন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার অবশেষে ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর রাতে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে আলোচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। এর আগে ১১ জুলাই ডেভিড ইমন পরিচয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়। এতে ডেভিড ইমন বলেন, ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো, আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো? মুজিবের কাছে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন। সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট অন্তত ১৫টি মামলার আসামি। পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন— এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

প্রবাসীর ঘর নয়, যেন মদের গুদাম

কে এই ডেভিড ইমন, কেন তাকে নিয়ে এতো আতঙ্ক

Update Time : 11:42:23 pm, Wednesday, 29 July 2026

হাতে কয়েক লাখ টাকার দামি ঘড়ি। চলাফেরায় আভিজাত্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার লাখের বেশি অনুসারী। বাইরে থেকে দেখলে যে কারো মনে হতে পারে ভারতের দক্ষিণী সিনেমার নায়ক। অথচ চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করেননি- বলছি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কথা। কথিত আছে চকচকে চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ভয়ংকর সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এক কথায় পুরো চট্টগ্রামে অপরাধ জগতের আতঙ্ক এই ডেভিড ইমন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার অবশেষে ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর রাতে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে আলোচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। এর আগে ১১ জুলাই ডেভিড ইমন পরিচয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়। এতে ডেভিড ইমন বলেন, ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো, আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো? মুজিবের কাছে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন। সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট অন্তত ১৫টি মামলার আসামি। পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন— এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।