3:27 am, Friday, 31 July 2026

খাদ্য গুদামে অনিয়মের অনুসন্ধানে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, সাংবাদিকের জিডি

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:21:39 am, Thursday, 30 July 2026
  • 9
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাংলাহিলি সরকারি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হাকিমপুর থানায় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও মুভিবাংলা টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি এবং হাকিমপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. মোকছেদুল মমিন (মোয়াজ্জেম) এ জিডির আবেদন করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে। কিন্তু একটি অসাধু চক্র প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে কৃষক নন, এমন ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কৃষকের নামে আবেদন জমা দেয়। একই মোবাইল নম্বর একাধিক কৃষকের আবেদনে ব্যবহারের ঘটনাও তার অনুসন্ধানে উঠে আসে। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে গত ২১ জুলাই বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে কৃষক তালিকায় থাকা আবুল কাশেম মণ্ডলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। প্রায় ৩৪ সেকেন্ডের কথোপকথনে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি হিলি সরকারি খাদ্য গুদামে প্রায় তিন মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ফোনালাপের প্রায় ১২ মিনিট পর একই নম্বর থেকে তার মোবাইলে কল আসে। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে পরিচয় না দিয়ে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রায় এক মিনিট ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে তিনি ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, হুমকিদাতা ব্যক্তি মো. সাখাওয়াত হোসেন (ডিলার সাখো) নামে পরিচিত। তিনি বাংলাহিলি বাজারে সরকারি খাদ্য গুদামের ধান-চাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ ও কেনাবেচার অভিযোগে অতীতেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। জিডিতে সাংবাদিক মোকছেদুল মমিন (মোয়াজ্জেম) বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তিনি কল রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট কৃষক তালিকার কপিও থানায় জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষী হিসেবে দৈনিক ইনকিলাব-এর হিলি প্রতিনিধি মো. মোসলেম উদ্দিন, দৈনিক যায়যায়দিন-এর হাকিমপুর প্রতিনিধি রমেন বসাক এবং দৈনিক সমকাল-এর হাকিমপুর প্রতিনিধি মো. আবু মুসাসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের নাম জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

খাদ্য গুদামে অনিয়মের অনুসন্ধানে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, সাংবাদিকের জিডি

Update Time : 12:21:39 am, Thursday, 30 July 2026

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাংলাহিলি সরকারি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হাকিমপুর থানায় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও মুভিবাংলা টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি এবং হাকিমপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. মোকছেদুল মমিন (মোয়াজ্জেম) এ জিডির আবেদন করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে। কিন্তু একটি অসাধু চক্র প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে কৃষক নন, এমন ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কৃষকের নামে আবেদন জমা দেয়। একই মোবাইল নম্বর একাধিক কৃষকের আবেদনে ব্যবহারের ঘটনাও তার অনুসন্ধানে উঠে আসে। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে গত ২১ জুলাই বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে কৃষক তালিকায় থাকা আবুল কাশেম মণ্ডলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। প্রায় ৩৪ সেকেন্ডের কথোপকথনে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি হিলি সরকারি খাদ্য গুদামে প্রায় তিন মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ফোনালাপের প্রায় ১২ মিনিট পর একই নম্বর থেকে তার মোবাইলে কল আসে। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে পরিচয় না দিয়ে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রায় এক মিনিট ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে তিনি ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, হুমকিদাতা ব্যক্তি মো. সাখাওয়াত হোসেন (ডিলার সাখো) নামে পরিচিত। তিনি বাংলাহিলি বাজারে সরকারি খাদ্য গুদামের ধান-চাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ ও কেনাবেচার অভিযোগে অতীতেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। জিডিতে সাংবাদিক মোকছেদুল মমিন (মোয়াজ্জেম) বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তিনি কল রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট কৃষক তালিকার কপিও থানায় জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষী হিসেবে দৈনিক ইনকিলাব-এর হিলি প্রতিনিধি মো. মোসলেম উদ্দিন, দৈনিক যায়যায়দিন-এর হাকিমপুর প্রতিনিধি রমেন বসাক এবং দৈনিক সমকাল-এর হাকিমপুর প্রতিনিধি মো. আবু মুসাসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের নাম জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।