7:18 pm, Thursday, 30 July 2026

স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ রুট যশোর

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:37:14 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই সড়ক থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ চোরাচালানিদের আটক করছে। তবে সবচেয়ে বেশি চালান আটক হচ্ছে সড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে। চলতি মাসে বিজিবির ৪টি তল্লাশি অভিযানে নীলগঞ্জ থেকে ১২ পিস স্বর্ণের বারসহ ৪ চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের কাছে নীলগঞ্জ এলাকা যেন স্বর্ণের খনি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত ২৬ জুলাই ভোরে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৩ হাজার ১৭৫ টাকা মূল্যের ৪ পিস স্বর্ণের বার ও একটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। আটক সুমন মণ্ডল ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ইসলামিয়া বাজার গ্রামের প্রাণনাথ মণ্ডলের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪৯ বিজিবির একটি বিশেষ দল নীলগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সুমনকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তার শরীরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন ৬৮০ গ্রাম। গত ২২ জুলাই নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের বারসহ সাদিকুর রহমান সুমন নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১৩ জুলাই নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে বিজিবি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের ১ পিস স্বর্ণের বারসহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের তাজুল ইসলামকে (৩৩) পাচারকারী হিসেবে আটক করে। গত ৭ জুলাই বিজিবি নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ পিস পূর্ণ ও একটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ রিপন মৃধা নামে এক পাচারকারীকে আটক করে। রিপন নড়াইল জেলার টোনা গ্রামের রজব আলী মৃধার ছেলে। স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ছিল ৫৮৩ দশমিক ১৯ গ্রাম। এর আগে গত ২ জুন নীলগঞ্জ ব্রিজের ওপর থেকে ১২ পিস স্বর্ণের বারসহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি। আটক লিটন রায় ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার কাছে ১ কেজি ৩৯৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। গত ৭ মে নীলগঞ্জ ব্রিজের কাছ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ২৬ পিস স্বর্ণের বারসহ তিনজনকে আটক করে বিজিবি। আটকরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের ইসরাইল সর্দার, চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের আব্দুল গনি এবং শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের রনি। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা নীলগঞ্জ ব্রিজের কাছে অবস্থান নেয়। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম ওজনের ২৬ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় ইসরাইল, আব্দুল গনি ও রনিকে আটক করে বিজিবি। আটক তিনজনের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা জব্দ করা হয়। সূত্র জানায়, এসব পাচারকারী ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব স্বর্ণের বার বহন করে থাকে। নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে প্রায়ই স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক হচ্ছে। অথচ বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই নীলগঞ্জ এলাকা অবস্থিত। তারপরও ওই রুটকে নিরাপদ মনে করছে পাচারকারীরা। তবে স্বর্ণ পাচার রোধে বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে যশোর থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের বার উদ্ধার হচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কতিপয় ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণের বার বিমানযোগে এনে প্রথমে ঢাকার গোপন আস্তানায় রাখেন। সেখান থেকে পাচার করে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। আর এ পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যশোর-নড়াইল রুট। যশোর সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণের বার ভারতে পাচার হয়। মাঝে-মধ্যে চালান ধরা পড়ে। তবে বেশির ভাগ চালান পাচার হয়ে যায় বলে সূত্রের দাবি। যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। স্বর্ণ চোরাচালান দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। পাচারকারীরা যশোরের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করছে। প্রায়ই অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারসহ চোরাচালানিদের আটক করা হচ্ছে। তবে চলতি মাসে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে বেশি স্বর্ণের বার উদ্ধার এবং পাচারকারী আটক হয়েছে। স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বিজিবির গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ভারত সফরে যাচ্ছেন বিসিবির সভাপতি তামিম

স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ রুট যশোর

Update Time : 05:37:14 pm, Thursday, 30 July 2026

স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই সড়ক থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ চোরাচালানিদের আটক করছে। তবে সবচেয়ে বেশি চালান আটক হচ্ছে সড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে। চলতি মাসে বিজিবির ৪টি তল্লাশি অভিযানে নীলগঞ্জ থেকে ১২ পিস স্বর্ণের বারসহ ৪ চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের কাছে নীলগঞ্জ এলাকা যেন স্বর্ণের খনি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত ২৬ জুলাই ভোরে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৩ হাজার ১৭৫ টাকা মূল্যের ৪ পিস স্বর্ণের বার ও একটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। আটক সুমন মণ্ডল ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ইসলামিয়া বাজার গ্রামের প্রাণনাথ মণ্ডলের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪৯ বিজিবির একটি বিশেষ দল নীলগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সুমনকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তার শরীরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন ৬৮০ গ্রাম। গত ২২ জুলাই নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের বারসহ সাদিকুর রহমান সুমন নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১৩ জুলাই নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে বিজিবি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের ১ পিস স্বর্ণের বারসহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের তাজুল ইসলামকে (৩৩) পাচারকারী হিসেবে আটক করে। গত ৭ জুলাই বিজিবি নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ পিস পূর্ণ ও একটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ রিপন মৃধা নামে এক পাচারকারীকে আটক করে। রিপন নড়াইল জেলার টোনা গ্রামের রজব আলী মৃধার ছেলে। স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ছিল ৫৮৩ দশমিক ১৯ গ্রাম। এর আগে গত ২ জুন নীলগঞ্জ ব্রিজের ওপর থেকে ১২ পিস স্বর্ণের বারসহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি। আটক লিটন রায় ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার কাছে ১ কেজি ৩৯৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। গত ৭ মে নীলগঞ্জ ব্রিজের কাছ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ২৬ পিস স্বর্ণের বারসহ তিনজনকে আটক করে বিজিবি। আটকরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের ইসরাইল সর্দার, চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের আব্দুল গনি এবং শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের রনি। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা নীলগঞ্জ ব্রিজের কাছে অবস্থান নেয়। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম ওজনের ২৬ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় ইসরাইল, আব্দুল গনি ও রনিকে আটক করে বিজিবি। আটক তিনজনের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা জব্দ করা হয়। সূত্র জানায়, এসব পাচারকারী ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব স্বর্ণের বার বহন করে থাকে। নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে প্রায়ই স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক হচ্ছে। অথচ বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই নীলগঞ্জ এলাকা অবস্থিত। তারপরও ওই রুটকে নিরাপদ মনে করছে পাচারকারীরা। তবে স্বর্ণ পাচার রোধে বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে যশোর থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের বার উদ্ধার হচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কতিপয় ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণের বার বিমানযোগে এনে প্রথমে ঢাকার গোপন আস্তানায় রাখেন। সেখান থেকে পাচার করে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। আর এ পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যশোর-নড়াইল রুট। যশোর সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণের বার ভারতে পাচার হয়। মাঝে-মধ্যে চালান ধরা পড়ে। তবে বেশির ভাগ চালান পাচার হয়ে যায় বলে সূত্রের দাবি। যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। স্বর্ণ চোরাচালান দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। পাচারকারীরা যশোরের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করছে। প্রায়ই অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারসহ চোরাচালানিদের আটক করা হচ্ছে। তবে চলতি মাসে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে বেশি স্বর্ণের বার উদ্ধার এবং পাচারকারী আটক হয়েছে। স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বিজিবির গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।