11:15 pm, Friday, 31 July 2026

ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:45:55 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 10
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তার অন্যতম সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ জানিয়েছে, ইমনের জন্য ভারতের একটি আধার কার্ডও তৈরি করা হয়েছিল। সীমান্ত পার করে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওপারে বড় সাজ্জাদের লোকজন অপেক্ষায় ছিলেন। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েন সাম্প্রতিক সময়ে খুন, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগী। গতকাল বুধবার ভোরে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এসপি মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস নামে ইমনের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ইমন ও তার অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ডেভিড ইমন ভারতে পালানোর উদ্দেশ্যে খুলনার দিকে রওনা দিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা, পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জ টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। পরে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভারতের তৈরি একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুবই কৌশলী। খুলনা যাওয়ার পথে তারা একাধিকবার গাড়ি ও চালক পরিবর্তন করেছে। তারা কখনো দেশীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করত না। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। এসপি বলেন, বুধবার ভোর ৬টার দিকে তাদের ভারতীয় সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সীমান্তের ওপারে তাদের গ্রহণ করার জন্য লোকজন অপেক্ষায় ছিল। পুলিশ জানায়, আত্মগোপনে থাকার জন্য ডেভিড ইমন নিজের গোঁফও কেটে ফেলেছিলেন। এ কারণে শুরুতে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়েছিল। তবে কথাবার্তার ধরন ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করা হয়। এদিকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকার মতিঝিলের মো. শামীম (২৮), রাউজানের মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াস (৪৯), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)। পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে গত ২২ জুলাই ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অস্ত্রের মজুদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২১টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসপি মাসুদ আলম বলেন, এই সন্ত্রাসী বাহিনীর মূল ব্যক্তি বড় সাজ্জাদ। দেশে তাদের প্রধান সহযোগী ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। রায়হান এখনো দেশে অবস্থান করছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া ফটিকছড়ি থানায় দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ

Update Time : 07:45:55 pm, Thursday, 30 July 2026

বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তার অন্যতম সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ জানিয়েছে, ইমনের জন্য ভারতের একটি আধার কার্ডও তৈরি করা হয়েছিল। সীমান্ত পার করে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওপারে বড় সাজ্জাদের লোকজন অপেক্ষায় ছিলেন। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েন সাম্প্রতিক সময়ে খুন, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগী। গতকাল বুধবার ভোরে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এসপি মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস নামে ইমনের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ইমন ও তার অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ডেভিড ইমন ভারতে পালানোর উদ্দেশ্যে খুলনার দিকে রওনা দিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা, পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জ টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। পরে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভারতের তৈরি একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুবই কৌশলী। খুলনা যাওয়ার পথে তারা একাধিকবার গাড়ি ও চালক পরিবর্তন করেছে। তারা কখনো দেশীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করত না। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। এসপি বলেন, বুধবার ভোর ৬টার দিকে তাদের ভারতীয় সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সীমান্তের ওপারে তাদের গ্রহণ করার জন্য লোকজন অপেক্ষায় ছিল। পুলিশ জানায়, আত্মগোপনে থাকার জন্য ডেভিড ইমন নিজের গোঁফও কেটে ফেলেছিলেন। এ কারণে শুরুতে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়েছিল। তবে কথাবার্তার ধরন ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করা হয়। এদিকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকার মতিঝিলের মো. শামীম (২৮), রাউজানের মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াস (৪৯), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)। পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে গত ২২ জুলাই ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অস্ত্রের মজুদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২১টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসপি মাসুদ আলম বলেন, এই সন্ত্রাসী বাহিনীর মূল ব্যক্তি বড় সাজ্জাদ। দেশে তাদের প্রধান সহযোগী ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। রায়হান এখনো দেশে অবস্থান করছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া ফটিকছড়ি থানায় দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার।