ঢাকায় একদিকে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, অভিজাত আবাসন ও বিলাসী জীবন। অন্যদিকে সেই ঝলমলে নগরীর ছায়াতেই গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি। টিন, বাঁশ, কাঠ ও পলিথিনে তৈরি ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে বাস করছে লাখো মানুষ।
তাদের শ্রমে সচল থাকছে রাজধানীর পরিবহন, পোশাকশিল্প, নির্মাণকাজ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও গৃহস্থালি সেবা। অথচ নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পেতে তাদের প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গ্রামে কাজের অভাব কিংবা দারিদ্র্যের চাপ— এমন নানা কারণে ঢাকায় আসছে মানুষ।
আগে থেকে ঢাকায় থাকা স্বজনরা অনেক ক্ষেত্রে নতুনদের কাজ ও বাসস্থানের সন্ধান দিচ্ছেন। এভাবেই একেকটি বস্তিতে গড়ে উঠছে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বসতি। রাজধানীর মিরপুরের চলন্তিকা ও শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-৭ নম্বর, পল্লবীর বিভিন্ন বস্তি এবং বনানীর কড়াইল ও বেলতলা এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অভিবাসনের এমন চিত্র। বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, গ্রাম থেকে শহরে আসার পেছনে যেমন কর্মসংস্থানের আকর্ষণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বাস্তুচ্যুতির চাপ।
ঢাকায় এসে কাজ মিললেও উচ্চ বাসাভাড়া, অনিরাপদ পরিবেশ ও সীমিত নাগরিক সুবিধার কারণে স্বস্তির জীবন মিলছে না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এবং নগর বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় নগর দরিদ্র ও বস্তিবাসীর সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৪ লাখ। ঢাকার মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নানা প্রতিকূলতার কারণে বস্তিগুলোতে বাধ্য হয়ে বসবাস করছে। ঢাকা শহরের বস্তিবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে।
‘ঢাকা শহরে বস্তিবাসীদের আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মো. রনি মৃধা। গবেষণায় উত্তরার বালুর মাঠ, তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনি ও যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি করপোরেশন কলোনির ৪৫০ জন বিবাহিত বস্তিবাসীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা যায়, উত্তরদাতাদের ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ নিরক্ষর। ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কেবল স্বাক্ষর করতে পারেন।
প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করেছেন মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া কেউ স্নাতক ডিগ্রিধারী ছিলেন না। পেশার ক্ষেত্রেও অনানুষ্ঠানিক কাজের ওপর নির্ভরতার চিত্র উঠে এসেছে। উত্তরদাতাদের ৩৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ রিকশাচালক। ২৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ দিনমজুরি বা গার্মেন্টসের কাজে যুক্ত।
প্রায় ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। আয়ের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। গবেষণা অনুযায়ী, ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে। ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ পরিবারের আয় ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে। অথচ ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবারের মাসিক ব্যয় ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা।
অর্থাৎ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত বহু পরিবারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলো ঋণ বা আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ উত্তরদাতা দিনে দুই বেলা খাবার খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১০ দশমিক ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা দিনে মাত্র এক বেলা খাবার পান।
তবে এই তথ্যকে ঢাকার সব বস্তিবাসীর অবস্থা হিসেবে সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে না। গবেষণায় ঢাকায় স্থানান্তরের কারণ হিসেবে চরম দারিদ্র্যের কথা বলেছেন ৩৯ দশমিক ১১ শতাংশ উত্তরদাতা। কাজ বা আয়ের সুযোগের সন্ধানে এসেছেন ৩০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে এসেছেন ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে নদীভাঙনের কথা বলেছেন ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বন্যার কথা ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ঘূর্ণিঝড়ের কথা ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
এই ফল দেখায়, ঢাকামুখী অভিবাসনের পেছনে শুধু কাজের আকর্ষণ নয়, গ্রামে টিকে থাকার সংকটও বড় ভূমিকা রাখে। তবে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। পল্লবীর নয়াবস্তিতে কথা হয় বরগুনা থেকে আসা নাসিমার সঙ্গে। অভাবের সংসারে জীবিকার সংস্থান না থাকায় পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি।
তার ভাষ্য, পেটের দায়েই গ্রাম ছেড়ে শহরে আসতে হয়েছে। এখানে কাজ করে অন্তত পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে। শিয়ালবাড়ি বস্তির বাসিন্দা মনছুরা বেগমের কাহিনি আরও বেদনাদায়ক। নদীভাঙনে জমি, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। মনছুরা বলেন, নদী সব নিয়ে গেছে। বাচ্চাগুলারে নিয়ে যাব কোথায়? তাই ঢাকায় চলে এসেছি।
কাজ করি, খাই। কোনোরকমে চলছি। একই বস্তির বাসিন্দা রহমত আলীরও ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে নদী। তিনি বলেন, নদী যখন বাড়িটা নিয়ে গেল, মনে হয়েছিল দুনিয়া শেষ। ঢাকায় এসে রিকশা চালিয়ে কোনোমতে টিকে আছি। এ ধরনের অভিজ্ঞতা উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের বহু পরিবারের। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেকের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তাদের কেউ কেউ ঢাকাসহ বড় শহরে চলে আসেন। তবে প্রত্যেক অভিবাসীর ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না। বস্তিতে নতুন মানুষের আগমন সব সময় বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে না। অনেক ক্ষেত্রে একজন আগে ঢাকায় এসে কাজ পান। কয়েক মাস পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আসেন। পরে ভাই, বোন, ভাগনে কিংবা গ্রামের প্রতিবেশীরাও তার দেখানো পথে শহরে আসেন। নতুনদের জন্য পরিচিতজনের মাধ্যমে বাসা খোঁজা, কাজের সন্ধান পাওয়া কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করা তুলনামূলক সহজ হয়।
ফলে একই এলাকার মানুষের একটি অংশ নির্দিষ্ট বস্তি বা মহল্লায় বসবাস করতে শুরু করেন। চলন্তিকা বস্তির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের পরিবার একসময় বরিশালে বাস করত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার চালের মিলে ডাকাতির ঘটনায় পরিবারের ব্যবসা ও সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে তার বাবা পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসে চলন্তিকা বস্তিতে আশ্রয় নেন।
আনোয়ার বলেন, তার বাবা মারা গেছেন প্রায় ১১ বছর আগে। কিন্তু যে বস্তিতে একসময় আশ্রয় নিতে হয়েছিল, সেটিই এখন তাদের স্থায়ী বসতবাড়ি হয়ে উঠেছে। মিরপুর-৭ নম্বর বস্তির চা-দোকানি বিউটির পরিবারও দারিদ্র্যের কারণে গ্রাম ছেড়েছিল। ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়িতে অভাবের সংসারে তার বাবা ভিটেমাটি বিক্রি করে দেন। পরে তারা ঢাকায় চলে আসেন। এখানে বিউটির বিয়ে হয়, সংসারে আসে দুই সন্তান।
তার স্বামী পোশাকশ্রমিক। সংসারের ব্যয় মেটাতে তিনি চায়ের দোকান চালান। বিউটি জানান, বাসা ও দোকানভাড়া মিলিয়ে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। আয়ের বড় অংশ ভাড়ায় চলে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অভিবাসনের এই যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকার অভিযোগও রয়েছে। কাজ পাইয়ে দেওয়া বা ঘর ভাড়া করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কিছু মানুষকে ঢাকায় আনা হয় বলে বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে এ ধরনের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি নির্ধারণে পৃথক অনুসন্ধান ও প্রমাণ প্রয়োজন। ঢাকায় আসার পেছনে নারীদের কর্মসংস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পোশাকশিল্প, গৃহস্থালি কাজ, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন সেবামূলক পেশায় কাজের সুযোগের কারণে অনেক নারী শহরে আসছেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ একা এসে পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে আসছেন।
চলন্তিকা বস্তির ২২ বছর বয়সি নিশাত বলেন, গ্রামে মেয়েদের কাজের সুযোগ সীমিত। ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করে নিজের হাতে আয় করতে পারছেন। সে কারণেই পরিবারসহ শহরে এসেছেন। তবে শহরে নারীর আয় পরিবারের আর্থিক সহায়তা বাড়ালেও আবাসন, যাতায়াত, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শিশুর যত্ন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে হয়। কম আয়ের পরিবারে এসব ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষাও জরুরি। বস্তিতে বসবাসের বড় সংকট ঘরভাড়া ও ঘরের মান। কোথাও ছোট টিনের ঘরে একটি পরিবারের একাধিক সদস্যকে থাকতে হয়। কোথাও দেয়াল টিনের, কোথাও কাঠ বা পলিথিনের। বৃষ্টি হলে পানি ঢোকে, গরমে ঘর অসহনীয় হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাবও রয়েছে। বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ৮ বাই ১০ ফুটের একটি ঘরের ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।
তবে এলাকাভেদে ঘরের আকার, সুযোগ-সুবিধা ও ভাড়ার পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে। ২০২৪ সালে ঢাকার বস্তিবাসীদের একটি আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ শীর্ষক অপর এক গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোর আবাসন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ৫৩ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার টিনশেড ঘরে, ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ ঝুপড়িতে এবং ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ আধাপাকা ঘরে বসবাস করত। মাত্র ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার নিরাপদ খাবার পানি এবং ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
গবেষণার এই তথ্য নির্দিষ্ট নমুনার হলেও স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন ও মৌলিক সেবার ঘাটতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। বস্তিবাসীদের অনেকে গ্রামে ফিরে যেতে আগ্রহী হলেও সেখানে কাজ ও আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় ফিরতে পারছেন না। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সরু চলাচলের পথ, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ঘরগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকায় আগুন লাগলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। জরুরি সেবা পৌঁছানোও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু বস্তিতে মাদক কারবার, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের দায় পুরো বস্তিবাসীর ওপর চাপানো যায় না।
অধিকাংশ মানুষ সেখানে জীবিকার জন্য বসবাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব কায়সার বলেন, বস্তিবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন কারণে জীবিকার সন্ধানে মানুষ নগরে এসে বস্তিতে আশ্রয় নেন। এ জন্য প্রথমে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, বস্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, বস্তির অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সব ক্রাইম বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিট পুলিশকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
পাশাপাশি বস্তিগুলো বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার বস্তিতে মানুষের চাপ বাড়ার পেছনে রয়েছে জীবিকার টান, গ্রামীণ সংকট, বাস্তুচ্যুতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি। এসব সমস্যার সমাধান না করে শুধু বস্তির দৃশ্যমান চেহারা বদলালে সংকটের মূল কারণ থেকে যাবে। নগরকে বাসযোগ্য করতে হলে যারা শহরটিকে সচল রাখেন, তাদেরও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।


























