আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৭%

কুষ্টিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত হলো ৮৬০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:07:46 pm, Wednesday, 28 October 2026
  • 17

কুষ্টিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত হলো ৮৬০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুষ্টিয়ায় প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ৮৬০ দশমিক ৯ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা শেষে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও) কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের আর্থিক সহায়তা দেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেশমা খাতুন। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক।

এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব এবং রিনিউ আর্থের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. প্রত্যয় বিন শাফী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে চাঁদ সুলতানা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দিনমনি মাধ্যমিক স্কুল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, সেতু এনজিও, বিডি-ক্লিন, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, কুষ্টিয়া জেলা এবং ব্রাইট ফিউচার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও সদস্যসহ তিন শতাধিক অংশীজন অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশদূষণ বাড়ছে। এসব বর্জ্য নালা, খাল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং জলজ পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমানো, উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথক করা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তাঁরা গুরুত্ব দেন।

বক্তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক জনসচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনা সভা শেষে কুষ্টিয়া ডিসি কোর্ট প্রাঙ্গণ, এন এস রোড এবং ছেঁউড়িয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউএনআইডিওর প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। অভিযানে সংগৃহীত প্রায় ৮৬০ দশমিক ৯ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্জ্য পৃথকীকরণ, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্ন জনপরিসর বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুবদল এবং পল্টন ট্র্যাজেডির বিচারের দাবিতে জামায়াতের কর্মসূচি

কুষ্টিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত হলো ৮৬০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য

Update Time : 11:07:46 pm, Wednesday, 28 October 2026

কুষ্টিয়ায় প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ৮৬০ দশমিক ৯ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা শেষে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও) কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের আর্থিক সহায়তা দেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেশমা খাতুন। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক।

এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব এবং রিনিউ আর্থের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. প্রত্যয় বিন শাফী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে চাঁদ সুলতানা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দিনমনি মাধ্যমিক স্কুল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, সেতু এনজিও, বিডি-ক্লিন, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, কুষ্টিয়া জেলা এবং ব্রাইট ফিউচার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও সদস্যসহ তিন শতাধিক অংশীজন অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশদূষণ বাড়ছে। এসব বর্জ্য নালা, খাল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং জলজ পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমানো, উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথক করা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তাঁরা গুরুত্ব দেন।

বক্তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক জনসচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনা সভা শেষে কুষ্টিয়া ডিসি কোর্ট প্রাঙ্গণ, এন এস রোড এবং ছেঁউড়িয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউএনআইডিওর প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। অভিযানে সংগৃহীত প্রায় ৮৬০ দশমিক ৯ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্জ্য পৃথকীকরণ, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্ন জনপরিসর বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।