প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলের দিকে আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা একযোগে আনা হয় ঐতিহ্যবাহী আলফাডাঙ্গা সরকারি আরিফুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। মাঠে প্রতিমা পৌঁছানোর পরপরই শুরু হয় নাচ-গান ও ভক্তিমূলক নানা আয়োজন। পূজা উৎসবের অন্তিম মুহূর্তে এসে শত শত মা-বোন মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায়। আনন্দ, ভালোবাসা ও ভক্তির আবহে সিঁদুর খেলা শেষে সন্ধ্যায় বিদায়ের সুরে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঢাকের বাদ্য আর আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান। উৎসবের এ আবহ দ্বিগুণ করতে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল থেকেই জমে ওঠে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্য মেলা। বিকেল গড়াতেই মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়; হাজারো মানুষের সমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। পরবর্তীতে আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার সব প্রতিমা সদর বাজারের লোকাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বারাশিয়া নদীর কেন্দ্রীয় বিসর্জন ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে ধর্মীয় নাচ-গান ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে প্রতিটি মন্দিরের সদস্যরা দেবী বিসর্জনে অংশ নেন। বিসর্জন কার্যক্রম সুন্দর ও আনন্দমুখর রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকরাও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। পূজা উদযাপন প্রসঙ্গে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, খুবই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপজেলার ৪৩টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে।
সুন্দর আয়োজনের জন্য প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সার্বজনীন উৎসব নিয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। বিসর্জনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করেছি।






















