নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত পাঁচজনের বাড়িই শরীয়তপুরের জাজিরায়। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর আজ সন্ধ্যায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের ডুবিসায়বর এলাকার সোহাগ শিকদার, সালাল মোল্লা, সামাদ ফকির, রামকৃষ্ণপুর এলাকার জুয়েল মাদবর ও একই উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন আহম্মেদ। তারা সোমবার রাতে মাদারীপুর জেলার মোস্তফাপুর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে রাজশাহী পেঁয়াজ, হলুদ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল কিনতে যাচ্ছিলেন।
আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জুয়েল মাদবরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়িতে লাশ পৌঁছানোর পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন জুয়েলের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার। জুয়েলের এক মেয়ে এক ছেলের মধ্যে মেয়ে রিদিতার বয়স চার আর ছেলে সাইফানের বয়স দুই। বাবার মৃত্যুর বিষয়টি দুই শিশু হয়তো উপলব্ধি করতে পারছে না। তবে দুই সন্তান নিয়ে অথই সাগরে পড়েছেন জুয়েলের স্ত্রী। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অঝোড়ে কাঁদছেন মৌসুমী।
মৌসুমী আক্তার জানান, রাজশাহী যাওয়ার আগে দুই সন্তানকে মনভরে আদর করে যান জুয়েল। যাওয়ার সময় বাবার কাছে চকলেট আনার বায়না করেন দুই সন্তান।
দুর্ঘটনার সময় বাসের সামনের দিকে বসেন সোহাগ শিকদার, সালাল মোল্লা , সামাদ ফকির ও শাহিন আহম্মেদ। বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।
নিহত সোহাগ শিকদারের একটি মেয়ে চার বছরের আয়াত। বাবার মৃত্যুর বিষয়টি শিশু মেয়ে হয়তো উপলব্ধি করতে পারছে না। তবুও পরিবার স্বজনদের কান্না দেখে তাকিয়ে থাকে শিশু আয়াত।
সোহাগ শিকদারের বাবা ইউনুছ শিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কাচামালের ব্যবসা করে। তাই রাজশাহী পেঁয়াজ কিনতে যাওয়ার সময় নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ হয় তখন ঘটনাস্থল থেকে ফোন আসে যে, আমার ছেলে মারা গেছে।’
এদিকে, সালাল মোল্লার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় সন্ধ্যার পরে। লাশ দেখে স্ত্রী, সন্তান আর আশপাশের মানুষ কাঁদতে শুরু করেন। সালালের লাশ দেখতে আশপাশের কয়েকশ মানুষকে ওই বাড়িতে ভিড় করতে দেখা গেছে। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দিতে আসা প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না।’
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে শরীয়তপুরের পাঁচজন মারা গেছে আমি শুনেছি। তবে নিহতর পরিবার ও অফিসিয়ালভাবে বিষয়টি এখন জানতে পারিনি। তবুও নিহতর পরিবারের খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করছি।’
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। নিহতর পরিবারগুলোকে সবধরনের সহযোগিতা করব।’






















