শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা সাজানো, রং করা ও আলোকসজ্জার কাজ। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলোও নিয়েছে নানা প্রস্তুতি।
এবার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৭৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৫৭টি সার্বজনীন এবং ১৬টি ব্যক্তিগত পূজা। পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট ও বিভিন্ন মণ্ডপের কমিটির সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা সরবরাহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজ করছেন তাঁরা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
যানজট নিয়ন্ত্রণে জোরদার করা হবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। পূজার সময় মণ্ডপগুলো আলোকিত রাখতে লোডশেডিংয়ের আগে আয়োজক কমিটিকে অবহিত করা হবে। প্রতিমা বিসর্জনস্থলেও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকবে পুলিশের মোবাইল টিম। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিংকু বলেন, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আমরা আশা করছি, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে। ’ শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। সবাই যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক থাকবে।






















