আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৯%

অভিবাসীদের মনোজগৎ দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি মূল্যায়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:12:54 pm, Tuesday, 11 August 2026
  • 58

অভিবাসীদের মনোজগৎ দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি মূল্যায়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অভিবাসী-অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাই অভিবাসীদের মনোজগৎ বা অভিজ্ঞতার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতিকে বোঝা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইন্ডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলেভ্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতিসত্তা কোনো বহিরাগত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দখল ও উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেনি। বরং দীর্ঘ নৃতাত্ত্বিক বিবর্তন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগোষ্ঠী ও জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছে। তিনি বলেন, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী-অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাসে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ ও দখলের একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা রয়েছে।

সেই ইতিহাসের দায় মোচনে এসব রাষ্ট্রের বিভিন্ন সভ্য ও ইতিবাচক উদ্যোগও দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনমিতির সঙ্গে ওই বাস্তবতার কোনো তুলনা চলে না। মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কথা বলার সময়, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে। আমরা কোনো পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে এমন একটি শব্দ বা বয়ানকে আবারও জনপ্রিয় করে তুলছি কি না, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায়শই অপ্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো একক বা একমাত্রিক নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নেই। হাজার বছরের ইতিহাসে নানান জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ দেশের সমাজ ও জাতিসত্তা গড়ে উঠেছে। এই বহুত্বের মধ্য দিয়েই একটি অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিকে বুঝতে হলে অভিবাসীদের চশমা দিয়ে দেখা যাবে না।

বাংলাদেশের জনমিতিকে বুঝতে হলে আমাদের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারাকে বুঝতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগত দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞানকে বিবেচনায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা বাংলাদেশের জাতিসত্তার নানান বৈচিত্র্য ও সংকটকে একটি অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কাঠামোর মধ্যে ধারণ করতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা, ইতিহাস ও জনমিতিকে বিবেচনায় রেখে সঠিক বয়ান উপস্থাপন করা জরুরি উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সঠিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া যায়। ভুল উত্তর দিলে তা সংশোধন করা যায়। কিন্তু ভুল প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার জন্য নিজেকে যুক্ত না করাই ভালো। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। গোলটেবিল বৈঠকে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গবেষক, শিক্ষক, নৃতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অভিবাসীদের মনোজগৎ দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি মূল্যায়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : 10:12:54 pm, Tuesday, 11 August 2026

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অভিবাসী-অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাই অভিবাসীদের মনোজগৎ বা অভিজ্ঞতার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতিকে বোঝা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইন্ডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলেভ্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতিসত্তা কোনো বহিরাগত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দখল ও উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেনি। বরং দীর্ঘ নৃতাত্ত্বিক বিবর্তন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগোষ্ঠী ও জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছে। তিনি বলেন, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী-অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাসে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ ও দখলের একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা রয়েছে।

সেই ইতিহাসের দায় মোচনে এসব রাষ্ট্রের বিভিন্ন সভ্য ও ইতিবাচক উদ্যোগও দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনমিতির সঙ্গে ওই বাস্তবতার কোনো তুলনা চলে না। মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কথা বলার সময়, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে। আমরা কোনো পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে এমন একটি শব্দ বা বয়ানকে আবারও জনপ্রিয় করে তুলছি কি না, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায়শই অপ্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো একক বা একমাত্রিক নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নেই। হাজার বছরের ইতিহাসে নানান জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ দেশের সমাজ ও জাতিসত্তা গড়ে উঠেছে। এই বহুত্বের মধ্য দিয়েই একটি অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিকে বুঝতে হলে অভিবাসীদের চশমা দিয়ে দেখা যাবে না।

বাংলাদেশের জনমিতিকে বুঝতে হলে আমাদের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারাকে বুঝতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগত দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞানকে বিবেচনায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা বাংলাদেশের জাতিসত্তার নানান বৈচিত্র্য ও সংকটকে একটি অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কাঠামোর মধ্যে ধারণ করতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা, ইতিহাস ও জনমিতিকে বিবেচনায় রেখে সঠিক বয়ান উপস্থাপন করা জরুরি উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সঠিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া যায়। ভুল উত্তর দিলে তা সংশোধন করা যায়। কিন্তু ভুল প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার জন্য নিজেকে যুক্ত না করাই ভালো। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। গোলটেবিল বৈঠকে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গবেষক, শিক্ষক, নৃতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।