4:24 am, Monday, 3 August 2026

হামের জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:56:25 am, Monday, 3 August 2026
  • 6
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

হামের প্রার্দুভাবে ভাইরাসের জিনগত কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে বর্তমানে ব্যবহৃত টিকার সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সি শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হামে আক্রান্ত হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমনটাই জানাচ্ছে আইসিডিডিআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআরবি বলেছে, প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা দেখে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, হাম ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে কি না, যার কারণে কমে গেছে টিকার কার্যকারিতা। তবে গবেষণার ফলাফল টিকা অকার্যকর হয়ে পড়ার ধারণা সমর্থন করে না।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বি৩ জিনোটাইপ বা ধরনের, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের হাম প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে। আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী নূরজাহান মালিহা বলেন, 'দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার কম ছিল।

তবে হাসপাতালভিত্তিক এই অনুসন্ধান দিয়ে জনসংখ্যা পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতার হার নির্ধারণ সম্ভব নয়।' স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ১৫ হাজার ২৭২ হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামজনিত বলে সন্দেহ করা ৭২১টি এবং পরীক্ষায় ৯৫টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।

এই প্রাথমিক ফলাফল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তবে টিকা নেওয়া কিছু শিশু কেন আক্রান্ত হয়েছে, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করছে, অপুষ্টি সুরক্ষাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং শিশুরা কখন মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি হারায়, তা অনুসন্ধানে আইসিডিডিআরবি আরও বিস্তৃত গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আইসিডিডিআরবি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জড়িত ছিলেন এই অনুসন্ধানে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় গবেষণায়। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছিল তিন থেকে আট মাস বয়সি শিশুরা। এই বয়সি ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন।

নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সি ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের— অর্থাৎ ৯৭.৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের— অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।

গবেষকরা বলছেন, টিকার কোনো সুরক্ষা না থাকা শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার প্রায় ৯৭ শতাংশ থেকে কমে দুই ডোজ পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ হওয়া, টিকা সুরক্ষা দিচ্ছে এমন ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হামে আক্রান্ত হয়নি এমন শিশুরা এই অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হামের জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি

Update Time : 01:56:25 am, Monday, 3 August 2026

হামের প্রার্দুভাবে ভাইরাসের জিনগত কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে বর্তমানে ব্যবহৃত টিকার সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সি শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হামে আক্রান্ত হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমনটাই জানাচ্ছে আইসিডিডিআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআরবি বলেছে, প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা দেখে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, হাম ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে কি না, যার কারণে কমে গেছে টিকার কার্যকারিতা। তবে গবেষণার ফলাফল টিকা অকার্যকর হয়ে পড়ার ধারণা সমর্থন করে না।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বি৩ জিনোটাইপ বা ধরনের, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের হাম প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে। আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী নূরজাহান মালিহা বলেন, 'দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার কম ছিল।

তবে হাসপাতালভিত্তিক এই অনুসন্ধান দিয়ে জনসংখ্যা পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতার হার নির্ধারণ সম্ভব নয়।' স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ১৫ হাজার ২৭২ হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামজনিত বলে সন্দেহ করা ৭২১টি এবং পরীক্ষায় ৯৫টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।

এই প্রাথমিক ফলাফল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তবে টিকা নেওয়া কিছু শিশু কেন আক্রান্ত হয়েছে, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করছে, অপুষ্টি সুরক্ষাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং শিশুরা কখন মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি হারায়, তা অনুসন্ধানে আইসিডিডিআরবি আরও বিস্তৃত গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আইসিডিডিআরবি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জড়িত ছিলেন এই অনুসন্ধানে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় গবেষণায়। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছিল তিন থেকে আট মাস বয়সি শিশুরা। এই বয়সি ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন।

নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সি ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের— অর্থাৎ ৯৭.৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের— অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।

গবেষকরা বলছেন, টিকার কোনো সুরক্ষা না থাকা শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার প্রায় ৯৭ শতাংশ থেকে কমে দুই ডোজ পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ হওয়া, টিকা সুরক্ষা দিচ্ছে এমন ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হামে আক্রান্ত হয়নি এমন শিশুরা এই অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।