11:15 pm, Monday, 3 August 2026

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলছেন জামায়াত নেতা!

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:21:01 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 9
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। অভিযোগে বলা হয়েছে, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মাদ্রাসাটিতে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যা গুরুতর জালিয়াতির শামিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব নম্বরেই বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ জটিলতার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলছেন জামায়াত নেতা!

Update Time : 06:21:01 pm, Sunday, 2 August 2026

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। অভিযোগে বলা হয়েছে, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মাদ্রাসাটিতে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যা গুরুতর জালিয়াতির শামিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব নম্বরেই বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ জটিলতার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।