গুনাহ শব্দটি সাধারণভাবে যার অর্থ দ্বারায় পাপ বা অন্যায়। মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশের পরিপন্থি সব কাজই গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর গুনাহ বা পাপ মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে- ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহ এবং ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ। এ ক্ষেত্রে সগিরা গুনাহ বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে মাফ হলেও তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা না করে মারা গেছে নিশ্চিত জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে। আর গুনাহ মাফের অন্যতম উপায় হলো কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা। এজন্য বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের পাশাপাশি উত্তম আমলের পথও বাতলে দিয়েছেন নবীজি (সা.)। এরমধ্যে দু’টি হাদিসে ছোট্ট দু’টি আমলের কথা এসেছে, যার ফলে বান্দার সগিরা বা ছোট গুনাহগুলো ঝরে যায়। এরমধ্যে একটি আমল হলো উত্তমরূপে ওজু করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন- যখন কোনো মুসলিম অথবা মুমিন বান্দা অজু করে আর সে তার মুখ ধৌত করে, তখন অজুর পানি অথবা অজুর পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা থেকে সব গুনাহ বের হয়ে যায়। যা সে তার দু’চোখ দিয়ে দেখেছিল। আর যখন সে তার দু’হাত ধৌত করে তখন অজুর পানি বা অজুর পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তার উভয় হাত থেকে সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে হাত দিয়ে ধরেছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত সে তার গুনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭০) এ ছাড়া আরেকটি আমল হলো চিরচেনা কিছু কালিমা পাঠ করা। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল (সা.) একটি শুকনো পাতাওয়ালা গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনি হঠাৎ একটি লাঠি দিয়ে গাছটিতে আঘাত করলে পাতাগুলো ঝরে পড়ে। এরপর নবীজি (সা.) বললেন, কোনো বান্দা ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ (অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, আল্লাহ তাআলা অতি পবিত্র এবং আল্লাহ তা‘য়ালা ব্যতীত আর কোনো মা‘বুদ নেই, তিনি অতি মহান) বললে তা তার গুনাহগুলো এমনভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এ গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়েছে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৩৩)
4:47 am, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
















