9:04 pm, Thursday, 30 July 2026

গাজী নজরুলকে নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র ক্ষোভ

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:45:38 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া তথ্য দিয়ে তিনি শ্যামনগরের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করছেন—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নেতারা। সম্প্রতি এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক এ কে ফজলুল হক। তিনি উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম নব্বইয়ের দশকে জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ কে ফজলুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গাজী নজরুল ইসলাম কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কিংবা কোন রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কেবল রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সুরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মুজিবুর রহমান। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, গাজী নজরুল ইসলামের নাম সরকারি কোনো গেজেটে অন্তর্ভুক্ত নেই। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টিকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবী রঞ্জন বলেন, এ ধরনের অসত্য দাবি শ্যামনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অর্জনকে খাটো করে। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সত্য বিকৃতির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এই বিতর্কের বিপরীতে ভিন্ন তথ্যও আলোচনায় উঠে এসেছে। অতীতে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে তৎকালীন স্পিকার ও বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধী দলের তৎকালীন ভূমিকা তুলে ধরে তিনি সংসদে বলেছিলেন, “বিরোধী দলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আমি সরাসরি রণাঙ্গনে দেখেছি; তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি গেজেটে নাম না থাকা এবং রণাঙ্গনে উপস্থিতির এই বিরোধপূর্ণ তথ্যের মুখে শ্যামনগরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন গাজী নজরুলের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

চলতি বছরেই বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গাজী নজরুলকে নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র ক্ষোভ

Update Time : 06:45:38 pm, Thursday, 30 July 2026

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া তথ্য দিয়ে তিনি শ্যামনগরের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করছেন—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নেতারা। সম্প্রতি এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক এ কে ফজলুল হক। তিনি উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম নব্বইয়ের দশকে জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ কে ফজলুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গাজী নজরুল ইসলাম কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কিংবা কোন রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কেবল রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সুরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মুজিবুর রহমান। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, গাজী নজরুল ইসলামের নাম সরকারি কোনো গেজেটে অন্তর্ভুক্ত নেই। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টিকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবী রঞ্জন বলেন, এ ধরনের অসত্য দাবি শ্যামনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অর্জনকে খাটো করে। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সত্য বিকৃতির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এই বিতর্কের বিপরীতে ভিন্ন তথ্যও আলোচনায় উঠে এসেছে। অতীতে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে তৎকালীন স্পিকার ও বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধী দলের তৎকালীন ভূমিকা তুলে ধরে তিনি সংসদে বলেছিলেন, “বিরোধী দলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আমি সরাসরি রণাঙ্গনে দেখেছি; তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি গেজেটে নাম না থাকা এবং রণাঙ্গনে উপস্থিতির এই বিরোধপূর্ণ তথ্যের মুখে শ্যামনগরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন গাজী নজরুলের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।