2:14 pm, Thursday, 30 July 2026

মাদক ব্যবসায়ীর ‘মিথ্যা অভিযোগে’ হয়রানির শিকার ডিএনসির কয়েক কর্মকর্তা

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:45:39 am, Thursday, 30 July 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা মহানগরে একাধিক মাদক মামলার আসামি ও কথিত সোর্স পরিচয়ধারী আবুল খায়ের মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগকে ঘিরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে আদালতে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত (২২ জুলাই) আবুল খায়ের মজুমদার ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু সাঈদ, উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদ এবং ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল খায়ের মজুমদার চট্টগ্রামের ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা। নিজেকে বিভিন্ন সময় সোর্স হিসেবে পরিচয় দিলেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মুগদা থানার মামলা নং ৫৮(০৭)২০১২, আদাবর থানার মামলা নং ০৫(০৪)২০১৩ এবং সীতাকুণ্ড থানার মামলা নং ১৫(০৭)২০২৩ উল্লেখযোগ্য। এসব মামলায় ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তিনি এজাহারভুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে জুয়া, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মারামারির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল আবুল খায়ের মজুমদার একটি মাদক সংক্রান্ত তথ্য দিলে তার ভিত্তিতে ডিএনসির একটি দল ডেমরার ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে সোর্সমানি গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন মামলার সোর্সমানির অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি প্রথমে মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দেন এবং পরে আদালতের দ্বারস্থ হন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতে দাখিল করা নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত মেডিকেল সার্টিফিকেটটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট তারিখে উল্লিখিত রোগীর কোনো ভর্তি তথ্য পাওয়া যায়নি, ব্যবহৃত চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিলও সঠিক নয় এবং দাখিলকৃত ছাড়পত্রে কোনো নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ ছিল না। এছাড়া অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যও এনআইডি সার্ভারে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগে উল্লেখিত ৬ জুলাই তেজগাঁও কার্যালয়ে মারধরের ঘটনারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণে অভিযোগকারী ওই দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসির উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, “একটি অসাধু চক্র মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এটি অধিদপ্তরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগকারী আবুল খায়ের মজুমদারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

মাদক ব্যবসায়ীর ‘মিথ্যা অভিযোগে’ হয়রানির শিকার ডিএনসির কয়েক কর্মকর্তা

Update Time : 11:45:39 am, Thursday, 30 July 2026

ঢাকা মহানগরে একাধিক মাদক মামলার আসামি ও কথিত সোর্স পরিচয়ধারী আবুল খায়ের মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগকে ঘিরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে আদালতে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত (২২ জুলাই) আবুল খায়ের মজুমদার ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু সাঈদ, উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদ এবং ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল খায়ের মজুমদার চট্টগ্রামের ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা। নিজেকে বিভিন্ন সময় সোর্স হিসেবে পরিচয় দিলেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মুগদা থানার মামলা নং ৫৮(০৭)২০১২, আদাবর থানার মামলা নং ০৫(০৪)২০১৩ এবং সীতাকুণ্ড থানার মামলা নং ১৫(০৭)২০২৩ উল্লেখযোগ্য। এসব মামলায় ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তিনি এজাহারভুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে জুয়া, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মারামারির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল আবুল খায়ের মজুমদার একটি মাদক সংক্রান্ত তথ্য দিলে তার ভিত্তিতে ডিএনসির একটি দল ডেমরার ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে সোর্সমানি গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন মামলার সোর্সমানির অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি প্রথমে মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দেন এবং পরে আদালতের দ্বারস্থ হন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতে দাখিল করা নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত মেডিকেল সার্টিফিকেটটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট তারিখে উল্লিখিত রোগীর কোনো ভর্তি তথ্য পাওয়া যায়নি, ব্যবহৃত চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিলও সঠিক নয় এবং দাখিলকৃত ছাড়পত্রে কোনো নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ ছিল না। এছাড়া অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যও এনআইডি সার্ভারে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগে উল্লেখিত ৬ জুলাই তেজগাঁও কার্যালয়ে মারধরের ঘটনারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণে অভিযোগকারী ওই দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসির উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, “একটি অসাধু চক্র মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এটি অধিদপ্তরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগকারী আবুল খায়ের মজুমদারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।