2:30 pm, Thursday, 30 July 2026

মানবপাচার রোধে আসছে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:26:14 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে ডিজিটাল মানবপাচার তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন মানবপাচার আইন বাস্তবায়নে বিধিমালা সংশোধন, ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, মামলা পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং জাতীয় পর্যায়ে তথ্য বিশ্লেষণ আরো কার্যকর করতে একটি ডিজিটাল মানবপাচার তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানবপাচার-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান সহজ হবে। নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য মানবপাচারের প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি বলেন, “মানবপাচারের পরিবর্তিত ধরন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে মানবপাচারের পাশাপাশি অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত মানবপাচারকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সুরক্ষা, তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করার বিধান রাখা হয়েছে।” সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭ সংশোধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার এবং অংশীদারত্ব এই চারটি ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম কার্যক্রমের মতো উদীয়মান ঝুঁকিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরো কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত তদন্ত ও বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউশন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উৎস, ট্রানজিট ও গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও কাজ করছে সরকার।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচার এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি উন্নয়ন, মানবাধিকার ও সুশাসনেরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই অনিয়মিত অভিবাসন, প্রতারণামূলক নিয়োগ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো মূল কারণ মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি খাত, আন্তর্জাতিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

মানবপাচার রোধে আসছে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 01:26:14 pm, Thursday, 30 July 2026

মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে ডিজিটাল মানবপাচার তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন মানবপাচার আইন বাস্তবায়নে বিধিমালা সংশোধন, ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, মামলা পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং জাতীয় পর্যায়ে তথ্য বিশ্লেষণ আরো কার্যকর করতে একটি ডিজিটাল মানবপাচার তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানবপাচার-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান সহজ হবে। নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য মানবপাচারের প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি বলেন, “মানবপাচারের পরিবর্তিত ধরন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে মানবপাচারের পাশাপাশি অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত মানবপাচারকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সুরক্ষা, তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করার বিধান রাখা হয়েছে।” সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭ সংশোধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার এবং অংশীদারত্ব এই চারটি ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম কার্যক্রমের মতো উদীয়মান ঝুঁকিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরো কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত তদন্ত ও বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউশন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উৎস, ট্রানজিট ও গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও কাজ করছে সরকার।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচার এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি উন্নয়ন, মানবাধিকার ও সুশাসনেরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই অনিয়মিত অভিবাসন, প্রতারণামূলক নিয়োগ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো মূল কারণ মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি খাত, আন্তর্জাতিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’