আজ সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬১%

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার অবশিষ্ট স্থাপনা ভাঙচুর

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:27:31 pm, Monday, 2 November 2026
  • 11

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার অবশিষ্ট স্থাপনা ভাঙচুর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় সোমবার মেলার প্রথম প্রবেশগেটসহ মাঠে থাকা সব অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এ ভাঙচুর শুরু করেন তারা। শিক্ষার্থী ছাব্বির আমজাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা বারবার মেলা কর্তৃপক্ষকে স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের জানানো হয়েছিল, সরকারি অনুমতি ছাড়া নির্মিত এসব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।

প্রথম দিন তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিন দিন পার হওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করেননি। বরং মেলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছে। পরে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করা হয়েছে, যাতে পুনরায় গবেষণার উপযোগী করে তোলা যায়। ’ শিক্ষার্থী শেখ রাইয়ান মাহমুদ বলেন, ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ শুধু এক টুকরো জমি নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কৃষি গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠটির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না; বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

’ এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো আরফান আলী পুরাতন বানিজ্য মেলা এশিয়া মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা ভাঙ্গচুরে বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে চলতি আন্দোলন কর্মসুচি হিসাবে তারা এখানে এসেছে এবং অবষ্টিশ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা তাদেরকে বলেছি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন বা মানববন্ধন চলিয়েছে যেতে।

উল্লেখ্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার এবং সেখানে বাণিজ্যমেলার আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এ সময় মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। পরদিন ২৭ অক্টোবর সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্যে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছিল। ২৮ অক্টোবর পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও যুব মেলার জন্য নির্মিত গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলার স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। মাঠ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

২৯ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রতিবাদ জানান। সর্বশেষ শিক্ষার্থীরা ২ নভেম্বর এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রবেশগেট অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙ্গে দেন শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় নারী নিহত

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার অবশিষ্ট স্থাপনা ভাঙচুর

Update Time : 05:27:31 pm, Monday, 2 November 2026

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় সোমবার মেলার প্রথম প্রবেশগেটসহ মাঠে থাকা সব অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এ ভাঙচুর শুরু করেন তারা। শিক্ষার্থী ছাব্বির আমজাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা বারবার মেলা কর্তৃপক্ষকে স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের জানানো হয়েছিল, সরকারি অনুমতি ছাড়া নির্মিত এসব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।

প্রথম দিন তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিন দিন পার হওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করেননি। বরং মেলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছে। পরে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করা হয়েছে, যাতে পুনরায় গবেষণার উপযোগী করে তোলা যায়। ’ শিক্ষার্থী শেখ রাইয়ান মাহমুদ বলেন, ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ শুধু এক টুকরো জমি নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কৃষি গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠটির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না; বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

’ এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো আরফান আলী পুরাতন বানিজ্য মেলা এশিয়া মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা ভাঙ্গচুরে বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে চলতি আন্দোলন কর্মসুচি হিসাবে তারা এখানে এসেছে এবং অবষ্টিশ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা তাদেরকে বলেছি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন বা মানববন্ধন চলিয়েছে যেতে।

উল্লেখ্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার এবং সেখানে বাণিজ্যমেলার আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এ সময় মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। পরদিন ২৭ অক্টোবর সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্যে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছিল। ২৮ অক্টোবর পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও যুব মেলার জন্য নির্মিত গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলার স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। মাঠ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

২৯ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রতিবাদ জানান। সর্বশেষ শিক্ষার্থীরা ২ নভেম্বর এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রবেশগেট অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙ্গে দেন শিক্ষার্থীরা।