যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে গভীর রাতে নিয়মিত ইয়াবা, গাঁজা ও প্যাথেডিন সেবনের আসর বসছে। সিসিইউর সামনে থেকে শুরু করে হাসপাতালের মর্গের পাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব মাদকের আড্ডা জমজমাটভাবে চলছে।
মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণে রাতের বেলায় ভয়ংকর হয়ে উঠছে পুরো হাসপাতাল এলাকা। মাদকের আসরের পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। এতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি কোথায়?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের মর্গের পাশ, সাইকেল স্ট্যান্ড, প্রশাসনিক ভবনের সামনের আমতলা, পুরাতন এমআর ক্লিনিকের আশপাশ এবং সিসিইউর সামনেসহ একাধিক স্থানে গভীর রাতে মাদকের আসর বসে। সেখানে ইয়াবা, গাঁজা ও প্যাথেডিন সেবনে মেতে ওঠে মাদকসেবীরা। গভীর রাতকে বেছে নেওয়ায় এসব কর্মকাণ্ড অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাচ্ছে। অথচ হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর ও জনবহুল প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মাদকসেবনের পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগও ক্রমেই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান থেকে এসএস পাইপ চুরি হচ্ছে। ওয়ার্ডের ভেতর থেকেও মাঝেমধ্যে রোগী ও স্বজনদের মালামাল খোয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসেবীরা সুযোগ বুঝে রোগীর স্বজনদের মোবাইল ফোন কিংবা ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ফলে অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মানুষকে চিকিৎসার উদ্বেগের পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা ও মালামাল রক্ষার চিন্তাও করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু যুবক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকের একটি অংশ মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। হাসপাতাল চত্বরে তাদের আনাগোনা ও মাদকসেবনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাসপাতালের মর্গ, সিসিইউ কিংবা প্রশাসনিক ভবনের সামনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও যদি গভীর রাতে মাদকের আসর বসে, তাহলে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যে হাসপাতালে মানুষ জীবন বাঁচানোর আশায় আসেন, সেখানে রোগীর স্বজনদেরই যদি চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে থাকতে হয়, তাহলে নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
হাসপাতাল কোনো মাদকসেবনের আড্ডাখানা নয়, এটি অসুস্থ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই শুধু আশ্বাস নয়, হাসপাতাল চত্বরকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। রাতভর নজরদারি জোরদার, নিয়মিত পুলিশি টহল, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং মাদকসেবন ও চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, হাসপাতাল চত্বরে মাদকের আসর বসার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।
বিষয়টি সত্যি হলে অবশ্যই তা অত্যন্ত খারাপ। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের নৈশপ্রহরীদের গোপন নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।






















