দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে ধস নামার পর বল হাতেও হতাশার শুরু হয়েছিল। তবে শেষ সেশনে ঘূর্ণির জাদুতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিনে মাত্র ৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তুলেছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে তারা। এদিনের বেশির ভাগ সময়ই স্বস্তিতে ছিল না স্বাগতিকরা। আগের দিন ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে খেলা শেষ করা টাইগাররা বৃহস্পতিবার সকালে আর মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই হারায় শেষ ৭ উইকেট।
২৭২ রানে গুটিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রথম ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান একাই নেন ৫ উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। দলীয় ২৯ রানে ব্রেন্ডন কিংকে (১৫) ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। এরপর জন ক্যাম্পবেল ও চন্দরপল মিলে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন।
বিশেষ করে ক্যাম্পবেলের ব্যাটিংয়ে ভালো অবস্থানে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। চা-বিরতির আগে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৮৯ রান। বৃষ্টির কারণে বিরতির পর খেলা শুরু হতেও দেরি হয়। তবে মাঠে ফিরে পরিস্থিতি পাল্টে দেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। প্রথমে ৫৪ রান করা ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মিরাজ।
স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। এরপর তাইজুলের ঘূর্ণিতে এলোমেলো হয়ে যায় সফরকারীদের ব্যাটিং। কেভাম হজ ৭ রান করে সিলি পয়েন্টে মুমিনুল হকের হাতে ধরা পড়েন। পরের আঘাতটি আসে আমির জাঙ্গুর উইকেট দিয়ে। সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি, কোনো রানই করতে পারেননি আমির। ৯০ রানে ১ উইকেট থেকে ৯৭ রানে ৪ উইকেটÑ মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচে ফেরার এই সুযোগ অবশ্য পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রেইভস পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। চন্দরপল ১৪৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন। অন্য প্রান্তে গ্রেইভসের সংগ্রহ ২২ বলে ১৫ রান। আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। দ্বিতীয় দিনে দুই দলের মোট ১১ উইকেটের পতন হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশের ৭টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪টি। ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও বোলারদের দাপটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো বাংলাদেশের হাতে। তৃতীয় দিনে ক্যারিবীয়দের বাকি ৬ উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে লিড আরও বাড়ানোই হবে স্বাগতিকদের লক্ষ্য।





















