আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৫%

লালমনিরহাট সীমান্তে বাঘ আতঙ্ক: বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:44:33 am, Tuesday, 27 October 2026
  • 15

লালমনিরহাট সীমান্তে বাঘ আতঙ্ক: বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাতে ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল বাঘটি। কিন্তু সকাল হতেই সেটির আর খোঁজ মিলছে না। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাঘটিকে খুঁজতে কাজ করছে বিজিবি ও বন বিভাগের বিশেষ দল। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। এর আগে, রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আফসার আলী (৪০)।

তাঁরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে শরিফা বেগম ধানক্ষেতে নিজের ছাগল আনতে গিয়ে সীমান্তের কাছে একটি বাঘকে ছাগলটির ওপর আক্রমণ করতে দেখেন। ছাগলটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাঘটি তার ওপরও হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে নজরুল ইসলাম ও আফসার আলী এগিয়ে এলে বাঘটি তাদের ওপরও আক্রমণ করে।

পরে বাঘটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

বাঘের আতঙ্কে অনেকে রাতভর পাহারা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পাশাপাশি মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। বাঘটি যাতে লোকালয়ে ঢুকতে বা অন্যত্র চলে যেতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখেন। রাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ওড়ানো হয়।

মধ্যরাতে ড্রোনের ক্যামেরায় সীমান্তের একটি জঙ্গলে বাঘটিকে দেখা যায়। তবে শেষ রাতের দিকে সেটি ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে যায়। সোমবার সকালেও ড্রোন উড়িয়ে বাঘটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

তারা রাতভর সেখানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, রাতে চিতা বাঘটিকে ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়রা রাতে পাহারায় ছিলেন। ঢাকা ও রংপুর থেকে বন বিভাগের দুটি দল এসেছে। তাদের বাঘটির অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিভাগীয় বন ও সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা নুর ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বড় আকারের বাঘটিই ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে।

তবে সোমবার সকাল থেকে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বাঘটিকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দলের অস্থিরতা নিয়ে সিমন্স: ম্যাচের আগে কি এই প্রথম এমন বিশৃঙ্খলা দেখছেন?

লালমনিরহাট সীমান্তে বাঘ আতঙ্ক: বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী

Update Time : 03:44:33 am, Tuesday, 27 October 2026

রাতে ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল বাঘটি। কিন্তু সকাল হতেই সেটির আর খোঁজ মিলছে না। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাঘটিকে খুঁজতে কাজ করছে বিজিবি ও বন বিভাগের বিশেষ দল। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। এর আগে, রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আফসার আলী (৪০)।

তাঁরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে শরিফা বেগম ধানক্ষেতে নিজের ছাগল আনতে গিয়ে সীমান্তের কাছে একটি বাঘকে ছাগলটির ওপর আক্রমণ করতে দেখেন। ছাগলটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাঘটি তার ওপরও হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে নজরুল ইসলাম ও আফসার আলী এগিয়ে এলে বাঘটি তাদের ওপরও আক্রমণ করে।

পরে বাঘটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

বাঘের আতঙ্কে অনেকে রাতভর পাহারা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পাশাপাশি মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। বাঘটি যাতে লোকালয়ে ঢুকতে বা অন্যত্র চলে যেতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখেন। রাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ওড়ানো হয়।

মধ্যরাতে ড্রোনের ক্যামেরায় সীমান্তের একটি জঙ্গলে বাঘটিকে দেখা যায়। তবে শেষ রাতের দিকে সেটি ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে যায়। সোমবার সকালেও ড্রোন উড়িয়ে বাঘটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

তারা রাতভর সেখানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, রাতে চিতা বাঘটিকে ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়রা রাতে পাহারায় ছিলেন। ঢাকা ও রংপুর থেকে বন বিভাগের দুটি দল এসেছে। তাদের বাঘটির অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিভাগীয় বন ও সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা নুর ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বড় আকারের বাঘটিই ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে।

তবে সোমবার সকাল থেকে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বাঘটিকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।