ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর আপাতত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোববার ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালানো হবে না।
মিশিগানে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ কথা বলেন। ইরানে হামলা হবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি জানান, রোববার দেশটিতে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। তবে এর আগে একই দিন ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্যে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো হবে, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে—এখন মূল বিবেচ্য বিষয় সেটিই। এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরান সেখান থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা কিংবা দেশটির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
পরে জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর কথা জানালেন ট্রাম্প। তার এই অবস্থান পরিবর্তন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।



























