ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও আকাশপথে বিধি-নিষেধের মধ্যে এবার পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্ক সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে দেশটির স্থলবাণিজ্যও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।
এতে ইরানের পণ্য পরিবহন ও বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ ও চলাচলে বিধি-নিষেধ ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও সংকুচিত করতে পারে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অবশিষ্ট স্থলপথ দিয়ে এই ক্ষতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া কঠিন। তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত খোলা থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পরিবহন জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তান গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্তে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বর্তমানে এসব পথে শুধু ইরানি গ্যাসবাহী ট্যাংকার এবং পচনশীল ফল ও সবজির চালান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। চোরাচালান প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরাকে প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির নির্দেশে চাজাবেহ ও আল-শাইবের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদক ও জাল মুদ্রা পাচারকারী চক্র দমনের কথা জানিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। এদিকে তুরস্কের বাজারগান সীমান্তেও ইরানি ট্রাক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও এখন মাত্র ২০০ থেকে ৩০০টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।






















