আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৯%

শরৎ শেষে বড়াল পাড়ে হেমন্তের রূপ

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:42:45 am, Tuesday, 27 October 2026
  • 11

শরৎ শেষে বড়াল পাড়ে হেমন্তের রূপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শরৎ ঋতুর বিদায়বেলায় গ্রাম-বাংলায় নেমে এসেছে হেমন্ত। মাঠে মাঠে সোনালি ধান, বাতাসে ভেসে আসে ধানের মিষ্টি গন্ধ। ঘাসের ওপর হালকা শিশির জমতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জুনাইদ, জুরাইন, টনি ও মনি নদীর ধারে আসে।

নদীর ওপারে কৃষকেরা ধান কাটছেন। কেউ ধানের আঁটি বাঁধছেন, কেউ মাথায় করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ নৌকায় সোনালি ধান সাজিয়ে রাখছেন। ধান কাটার পর ধান মাড়াইয়ের কাজেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও কিষানিরা। তাদের দেখে মনে হয়, যেন তারা উৎসবে মেতেছেন। জুনাইদ বলল, ‘হেমন্তকালে নবান্ন উৎসব হয়। প্রতিটি বাড়িতে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকম সুস্বাদু পিঠা, পায়েস ও ক্ষীর।

’ মনি বলল, ‘ওই দেখ, কৃষকেরা গান গাইছেন! তাদের যেন আনন্দের শেষ নেই। ’ হালকা কুয়াশায় নদীর তীরের গাছগুলো ঢেকে গেছে। কৃষকদের আশপাশে কয়েকটি পাখি উড়ছে। তারা মাটিতে পড়ে থাকা ধান ও পোকামাকড় খুঁজে খাচ্ছে। ধানের আঁটিবোঝাই নৌকা নিয়ে ভাটিয়ালি গান গাইতে গাইতে আসছেন এক মাঝি। তিনি বড়াল নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে ধান নিয়ে যাচ্ছেন।

টনি বলল, ‘সোনালি ধান যেন কৃষকের স্বপ্নের ফসল। ’ জুনাইদ বলল, ‘কৃষকেরা সারা বছর কষ্ট করে ফসল ফলান। নতুন ধান ঘরে উঠলে তাদের সারা বছরের কষ্ট অনেকটাই দূর হয়। এ বছর নাকি ধানের ফলন ভালো হবে, দাদুভাই সকালে বাবাকে বলেছিল। ’ জুরাইন বলল, ‘ওই দূরের কাশবনের পাশে দেখ, কত পাখি! ’ একটি মাছরাঙা মাছ শিকার করার জন্য নদীর ধারে ছোট একটি গাছের আড়ালে ওতপেতে আছে।

জুনাইদ বলল, ‘হেমন্ত ঋতু আমাদের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। হালকা শীতের আমেজ আর ঘন কুয়াশায় হেমন্তকাল সত্যিই দারুণ লাগে। আমাদের নাগডেমরা গ্রামে হেমন্ত এলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক রাত পর্যন্ত চলে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এই বড়াল নদী যেন হেমন্তকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। নদীর ধারের গাছপালা পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। নদীর ওপারে আছে ধানখেত আর মাষকলাইয়ের খেত।

’০ জুনাইদ আবার বলল, ‘কিছুদিন পর অতিথি পাখি এসে নদীর তীরের আশপাশের গাছপালা ভরিয়ে তুলবে। আমাদের সহপাঠীদের সঙ্গে হেমন্তকাল ও নবান্ন নিয়ে আলোচনা করা দরকার। তাহলে তারা হেমন্ত সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। ’ টনি বলল, ‘দেখ, নদীর পাড়ে কত সুন্দর কলমি ফুল ফুটে আছে! আহা, কী অপরূপ সৌন্দর্য! দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

দাদুভাই আমাদের হেমন্তকাল সম্পর্কে অনেকবার গল্প করেছেন। হেমন্ত ঋতু আমাদের গ্রামে যেন অন্য রকম ভালো লাগার স্মৃতি তৈরি করে। ’ জুরাইন বলল, ‘হেমন্তকালে খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য গাছিরা খেজুরগাছে রসের হাঁড়ি পেতে রেখে আসেন। সকালে সেই রস সংগ্রহ করা হয়। এই রস খুব সুস্বাদু। ’ মনি বলল, ‘স্কুল ছুটি হলে এবার মামার বাড়ি গিয়ে খেজুরের রস খেয়ে আসব।

’ জুনাইদ বলল, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেলে সরিষা খেতের ফুলগুলো দেখতে যাব, কী বলিস মনি? ’ সরিষার ফুলের গাছগুলো এখনো বড় হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই ফুল ফুটবে আর হলুদ রঙে রাঙিয়ে দেবে সারা মাঠ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

শরৎ শেষে বড়াল পাড়ে হেমন্তের রূপ

Update Time : 05:42:45 am, Tuesday, 27 October 2026

শরৎ ঋতুর বিদায়বেলায় গ্রাম-বাংলায় নেমে এসেছে হেমন্ত। মাঠে মাঠে সোনালি ধান, বাতাসে ভেসে আসে ধানের মিষ্টি গন্ধ। ঘাসের ওপর হালকা শিশির জমতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জুনাইদ, জুরাইন, টনি ও মনি নদীর ধারে আসে।

নদীর ওপারে কৃষকেরা ধান কাটছেন। কেউ ধানের আঁটি বাঁধছেন, কেউ মাথায় করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ নৌকায় সোনালি ধান সাজিয়ে রাখছেন। ধান কাটার পর ধান মাড়াইয়ের কাজেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও কিষানিরা। তাদের দেখে মনে হয়, যেন তারা উৎসবে মেতেছেন। জুনাইদ বলল, ‘হেমন্তকালে নবান্ন উৎসব হয়। প্রতিটি বাড়িতে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকম সুস্বাদু পিঠা, পায়েস ও ক্ষীর।

’ মনি বলল, ‘ওই দেখ, কৃষকেরা গান গাইছেন! তাদের যেন আনন্দের শেষ নেই। ’ হালকা কুয়াশায় নদীর তীরের গাছগুলো ঢেকে গেছে। কৃষকদের আশপাশে কয়েকটি পাখি উড়ছে। তারা মাটিতে পড়ে থাকা ধান ও পোকামাকড় খুঁজে খাচ্ছে। ধানের আঁটিবোঝাই নৌকা নিয়ে ভাটিয়ালি গান গাইতে গাইতে আসছেন এক মাঝি। তিনি বড়াল নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে ধান নিয়ে যাচ্ছেন।

টনি বলল, ‘সোনালি ধান যেন কৃষকের স্বপ্নের ফসল। ’ জুনাইদ বলল, ‘কৃষকেরা সারা বছর কষ্ট করে ফসল ফলান। নতুন ধান ঘরে উঠলে তাদের সারা বছরের কষ্ট অনেকটাই দূর হয়। এ বছর নাকি ধানের ফলন ভালো হবে, দাদুভাই সকালে বাবাকে বলেছিল। ’ জুরাইন বলল, ‘ওই দূরের কাশবনের পাশে দেখ, কত পাখি! ’ একটি মাছরাঙা মাছ শিকার করার জন্য নদীর ধারে ছোট একটি গাছের আড়ালে ওতপেতে আছে।

জুনাইদ বলল, ‘হেমন্ত ঋতু আমাদের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। হালকা শীতের আমেজ আর ঘন কুয়াশায় হেমন্তকাল সত্যিই দারুণ লাগে। আমাদের নাগডেমরা গ্রামে হেমন্ত এলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক রাত পর্যন্ত চলে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এই বড়াল নদী যেন হেমন্তকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। নদীর ধারের গাছপালা পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। নদীর ওপারে আছে ধানখেত আর মাষকলাইয়ের খেত।

’০ জুনাইদ আবার বলল, ‘কিছুদিন পর অতিথি পাখি এসে নদীর তীরের আশপাশের গাছপালা ভরিয়ে তুলবে। আমাদের সহপাঠীদের সঙ্গে হেমন্তকাল ও নবান্ন নিয়ে আলোচনা করা দরকার। তাহলে তারা হেমন্ত সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। ’ টনি বলল, ‘দেখ, নদীর পাড়ে কত সুন্দর কলমি ফুল ফুটে আছে! আহা, কী অপরূপ সৌন্দর্য! দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

দাদুভাই আমাদের হেমন্তকাল সম্পর্কে অনেকবার গল্প করেছেন। হেমন্ত ঋতু আমাদের গ্রামে যেন অন্য রকম ভালো লাগার স্মৃতি তৈরি করে। ’ জুরাইন বলল, ‘হেমন্তকালে খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য গাছিরা খেজুরগাছে রসের হাঁড়ি পেতে রেখে আসেন। সকালে সেই রস সংগ্রহ করা হয়। এই রস খুব সুস্বাদু। ’ মনি বলল, ‘স্কুল ছুটি হলে এবার মামার বাড়ি গিয়ে খেজুরের রস খেয়ে আসব।

’ জুনাইদ বলল, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেলে সরিষা খেতের ফুলগুলো দেখতে যাব, কী বলিস মনি? ’ সরিষার ফুলের গাছগুলো এখনো বড় হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই ফুল ফুটবে আর হলুদ রঙে রাঙিয়ে দেবে সারা মাঠ।