অনলাইন থেকে অফলাইনের বিস্তৃত ক্যানভাসে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছেন দেশের একঝাঁক সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা। সম্প্রতি ৪১ জন উদ্যোক্তার সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করেছে ইজি সদাই মেগা মল।
এই উদ্যোগের পেছনের গল্প, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্র্যান্ড ‘টগস বাই লিমু’র যাত্রাপথ নিয়ে কথা বলেছেন উদ্যোগ দুটির মূল দুই কা-ারিÑ ইজি সদাই মেগা মলের স্বত্বাধিকারী মো. সৌভিকুর রহমান এবং টগস বাই লিমুর স্বত্বাধিকারী লিমু হাওলাদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মির্জা হাসান মাহমুদ উদ্যোগ যখন উদযাপনের মো. সৌভিকুর রহমান স্বত্বাধিকারী, ইজি সদাই মেগা মল প্রশ্ন : শুভকামনা জানবেন!
১১ অক্টোবর শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে ‘ইজি সদাই মেগা মল’-এর যাত্রা শুরু হলো। এই উদ্যোগে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং বর্তমানে কেমন আছেন? উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ, ভালো সাড়া পাচ্ছি। দেশে এ ধরনের উদ্যোগ নতুন, তাই মানুষের কাছে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে উদ্বোধনের প্রথম ১০ দিনে আমরা যে সাড়া পেয়েছি, তা নিয়ে আমি আশাবাদী। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো চলছে।
প্রশ্ন : এমন একটি ‘মেগা মল’-এর আইডিয়া আপনার মাথায় কীভাবে এল? উত্তর : আট বছর ধরে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করছি। দেখেছি, উদ্যোক্তা উন্নয়নের নামে অনেক উদ্যোগ শুধু পুরস্কার প্রদান আর অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেই জায়গা থেকেই কিছু বাস্তব করে দেখানোর তাগিদ আসে, বিশেষ করে কোভিডের সময়। আমি দেখাতে চেয়েছি, কোনো পদ বা সংগঠনের দায়িত্বে না থেকেও উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর কিছু করা সম্ভব।
প্রশ্ন : বর্তমানে ৪১ জন উদ্যোক্তা যুক্ত আছেন। তাদের কীভাবে নির্বাচন করেছেন? ভবিষ্যতে উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানো বা দেশের অন্য শহরে শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে কি? উত্তর : এই ৪১ জনের অধিকাংশ উদ্যোক্তার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাদের ব্র্যান্ডের বিভিন্ন কাজ ওঈঞ ঈঅজঊ করে থাকে। উদ্যোক্তা নির্বাচনেও গুরুত্ব দিয়েছি পণ্যের মান ও সঠিক দামকে, যাতে পণ্য কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে না পৌঁছায়।
এই মলে আপাতত উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি জেলায় এমন শপ করার আগ্রহ আছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রস্তাবও পেয়েছি। তবে আগে বর্তমান উদ্যোগটিকে স্থিতিশীল করতে চাই। প্রশ্ন : নতুন বা মাঝারি উদ্যোক্তারা ইজি সদাই মেগা মলে যুক্ত হয়ে ব্র্যান্ডিং ও বিক্রির ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন? উত্তর : মূলত যেসব উদ্যোক্তার অনলাইন শপ আছে, কিন্তু ক্রেতার আস্থার সংকট রয়েছে, কিংবা এককভাবে ভালো লোকেশনে শপ নেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের এগিয়ে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।
এখানে তারা আমার প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ভ্যালু কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রয় বাড়ানো এবং পেইড ও অর্গানিক মার্কেটিংয়ের সুবিধাও পাচ্ছেন। অর্থাৎ, এককভাবে যা করা কঠিন, সেটি সম্মিলিতভাবে করার সুযোগ তৈরি করছি। প্রশ্ন : তরুণদের মধ্যে যারা ব্যবসা বা উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম নিয়ে নতুন কিছু ভাবছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : প্রথমেই রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে। আমাদের দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকার ও অভিভাবক, উভয়েরই। পরিবারের সবচেয়ে কম মেধাবী সন্তানকে ব্যবসায় পাঠানোর মানসিকতা থেকেও বের হতে হবে। ব্যবসা মানে দ্রুত সাফল্য নয়। এখানে দীর্ঘমেয়াদি ডেডিকেশন, ফোকাস ও ধৈর্য প্রয়োজন। এগুলো ধরে রাখতে না পারলে ব্যবসা আপনার জন্য নয়।





















