২০১৭ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ পথচলায় অনলাইন থেকে অফলাইনে পদার্পণ করার অনুভূতি নিয়ে টগস বাই লিমুর প্রতিষ্ঠাতা জানান, উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা ২০১৭ সালে হয়েছিল এবং অনলাইন থেকে অফলাইনে আসার অনুভূতি তাঁর জন্য অবর্ণনীয় আনন্দের।
প্রশ্ন : ২০১৭ সালে অনলাইনে টগস বাই লিমুর যাত্রা শুরু। শুরুর সময়কার গল্প কেমন ছিল? উত্তর : শুরুতে নাম ছিল “মিমোষা’স ইউটোপিয়া” মানে মিমোষার স্বপ্নরাজ্য। পরে ২০২৪ সালের শেষের দিকে নাম পরিবর্তন করে ‘টগস’ দেওয়া হয়। ছোটবেলায় রণদা প্রসাদ সাহার জীবনী পড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখি, কিন্তু ব্যবসা করার মতো পুঁজি তো ছিল না।
২০১৭ সালেই প্রথমবার সাহস করে আমি অনলাইনে একটা পেজ থেকে ৩৫০ টাকার জাপানিজ সিল্ক শাড়ি অর্ডার করি, ধরেই নিয়েছিলাম ঠকে যাব। কারণ ওই সময়ে সবার ধারণা ছিল অনলাইন মানেই ধোঁকা। পরে আমাকে অবাক করে দিয়ে দাম হিসেবে বেশ ভালো একটা শাড়িই হাতে পাই, তখন আমার মনে হলো, সত্যিই তো আমিও চাইলে কম পুঁজিতে অনলাইনে ব্যবসা করে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।
আর আমার এই স্বপ্ন পূরণে সবার আগে এগিয়ে এসেছিল আমার হাসব্যান্ড। এই মানুষটাকে আমি আমার কোনো স্বপ্নের কথা বলেছি আর সে সাধ্য থাকতেও পূরণ করেনি, এমনটা কোনো দিন হয়নি। ব্যবসার প্রথম পুঁজি সে-ই দেয়। মাত্র চার হাজার টাকা নিয়ে শুরু করলেও সেল করেছিলাম প্রায় ৩০ হাজার টাকার শাড়ি। প্রশ্ন : আপনার পণ্যে দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক রুচির সংমিশ্রণ কীভাবে ঘটান?
উত্তর : আমি সব সময়ই চেষ্টা করি, দেশীয় পোশাকশিল্পের দিকে গুরুত্ব দিতে, কারণ আমার দেশের অর্থনীতি ত্বরান্বিত করতে অবশ্যই আমার দেশের অন্যতম একটা শিল্প তাঁত এবং পোশাকশিল্পের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিজে শপিং করতে গেলেও যেমন দেশীয় ব্র্যান্ড বেছে নিই, তেমনি নিজের ব্র্যান্ডও পরিচিত হচ্ছে মেইড ইন বাংলাদেশ হিসেবেই। আমি ডিজাইনের ক্ষেত্রে ট্রেন্ডের দিকে খেয়াল রাখি; তবে কাপড়ের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে তৈরি কাপড় ও তাঁত বেছে নিই।
প্রশ্ন : দীর্ঘদিন অনলাইনে বিজনেসের পর অফলাইনে পণ্য বিক্রির প্রয়োজনীয়তা কেন অনুভব করলেন? উত্তর : অনলাইনে ব্যবসা অনেক ভালো থাকলেও ভোক্তা চাহিদার কথা চিন্তা করে এবং বিশ্বস্ততার ভিত্তি আরও একটু মজবুত করতে অবশ্যই প্রতিটি উদ্যোক্তার যদি সুযোগ থাকে, তবে অফলাইনে বিক্রি করা উচিত। প্রশ্ন : ৪১ জন উদ্যোক্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইজি সদাই মেগা মল’-এ যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?
উত্তর : ইজি সদাই মেগা মল আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক বড় একটা প্ল্যাটফর্ম, যেটা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অনেক বড় অবদান রাখবে; সেই সঙ্গে এতগুলো ব্র্যান্ড নিজেকে খুব সহজে পরিচিত করার বড় একটা সুযোগ পাচ্ছে, আমিও একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি। প্রশ্ন : এখন ক্রেতারা সরাসরি শপে এসে কাপড় ধরে দেখে কিনতে পারছেন।
অনলাইন বনাম অফলাইন বিক্রির অভিজ্ঞতায় কি বড় পার্থক্য দেখছেন? উত্তর : অনলাইন ও অফলাইন দুই জায়গাতেই আমার অভিজ্ঞতা বরাবরই ভালো। সবাই আমার ডিজাইন পছন্দ করছে, ন্যায্যমূল্যে পাচ্ছে আর এখন তো যোগ হলো হাতে ধরে দেখে নেওয়ার সুযোগ। প্রশ্ন : অফলাইন আউটলেটের জন্য কি ‘টগস বাই লিমু’র বিশেষ কোনো এক্সক্লুসিভ কালেকশন রাখা হয়েছে?
উত্তর : আমার জন্য সব ক্রেতা সমান। তাই অনলাইন ও অফলাইন দুই জায়গাতেই সব ধরনের কালেকশন থাকবে, যাতে আমার অনলাইনের ক্রেতারা দূর থেকে মন খারাপ না করে। প্রশ্ন : ডিজাইন, প্রোডাকশন এবং এখন অফলাইন ডিসপ্লেÑ সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে? উত্তর : যেহেতু জবের পাশাপাশি বিজনেস করছি, একটু তো চ্যালেঞ্জ থাকবেই, তবে মনেপ্রাণে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ওইটুকু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো সাহস আমার আছে।
প্রশ্ন : ‘টগস বাই লিমু’ ব্র্যান্ডটিকে নিয়ে ভবিষ্যতে আপনার পরিকল্পনা বা স্বপ্ন কী? উত্তর : আমার ব্র্যান্ডের নাম মূলত ‘ঞড়মং- গধফব রহ ইধহমষধফবংয’ এই নামকরণের পেছনেই আমার একটা উদ্দেশ্য ছিলÑ শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও টগস একটা বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত হবে। অলরেডি আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের ক্রেতা আছে, ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে দেশের বাইরে একটা হলেও আউটলেট দেওয়ার।
প্রশ্ন : যেসব নারী উদ্যোক্তা অনলাইনে কাজ করছেন এবং নিজেদের ব্র্যান্ড বড় করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন? উত্তর : লেগে থাকুন, এ একটাই কথা বলব। জীবনে যা কিছুই হয়ে যাক না কেন, হাল ছাড়বেন না, স্বপ্ন দেখলে সব সময় বড় স্বপ্ন দেখা উচিত। তাহলে স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়; তবে ধৈর্য ধরে লেগে থাকা এবং কাজ করে যাওয়াটা জরুরি।





















