গরু বা খাসির মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি খামারের বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরা ও খুলনার সীমান্তবর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের ওই খামারে অভিযান চালিয়ে চার মণ ঘোড়ার মাংসসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ সময় একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চনপুর গ্রামে ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্ম’ নামে খামারটি গত বছরের জুলাইয়ে চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গবাদিপশুর খামারের আড়ালে সেখানে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।
খামারের চারপাশে উঁচু টিনের বেড়া থাকায় ভেতরের কর্মকাণ্ড বাইরে থেকে বোঝা কঠিন ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সাতক্ষীরার একটি বিশেষ দল (এসআরবি-৬) খামারটিতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তিনটি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের চার থেকে পাঁচজন সদস্য পালিয়ে যান।
তবে আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। অভিযানকালে জবাই করা তিনটি ঘোড়ার প্রায় ১৬০ কেজি বা চার মণ মাংস এবং একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ডুমুরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক আনিসুরকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
জব্দ করা মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা জীবিত ঘোড়াটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু স্থানীয় হাটবাজারে সীমাবদ্ধ ছিল না। আঠারো মাইল, চুকনগর, সাতক্ষীরার তালা ও পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে ঘোড়ার মাংস সরবরাহ করা হতো।
এ ঘটনায় আগে না জেনে এমন মাংস খেয়ে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া, ভেটেরিনারি সনদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বিধান অনুসরণ না করে লোকালয়ে ঘোড়া জবাই করে মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে বাজারজাত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক ব্যক্তিকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মূল চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় পুরো ঘটনার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। তাঁরা চক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিয়মিত ফৌজদারি মামলার আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।






















