আজ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

শীত আসতেই তাড়াইলে লেপ-তোষক তৈরির ধুম, বেড়েছে তুলার দাম

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:44:18 pm, Saturday, 24 October 2026
  • 18

শীত আসতেই তাড়াইলে লেপ-তোষক তৈরির ধুম, বেড়েছে তুলার দাম

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে লেপ-তোষকের বাজার। শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে লেপ, তোষک ও বালিশ তৈরি করাতে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

এতে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। তবে তুলার দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা হওয়ায় বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরির খরচ। ফলে চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও কারিগররা। হেমন্তের শুরুতেই দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরে ঘাস-লতাপাতার ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

পৌষ ও মাঘ দুই মাস শীতকাল হিসেবে পরিচিত হলেও আগেভাগেই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাচ্ছেন তারা। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরির কারিগর ও দোকানিদের। তবে বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাড়াইল সদর বাজারের বড় মসজিদ রোড এলাকার তুলার দোকান ও লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়।

কেউ নিজের পরিবারের জন্য,আবার কেউ মেয়ের সংসারের জন্য লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাতে এসেছেন। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগররা। উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের লেপ-তোষকের কারিগর মুহাম্মাদ আলী ও রোকন মিয়া বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় তাঁদের অলস সময় কাটাতে হয়। শীতের দুই থেকে তিন মাসই তাঁদের মূল মৌসুম।

গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী লেপ-তোষক তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেন, তোষক তৈরিতে ২০০ টাকা, লেপে ২০০ টাকা এবং জাজিম তৈরিতে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দুজন কারিগর মিলে প্রায় ৩০ মিনিটে একটি লেপ, তোষক বা জাজিম তৈরি করতে পারেন। প্রত্যেকে প্রতিদিন ছয় থেকে সাতটি লেপ তৈরি করেন।

এতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি আয় হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের চাপ ও আয়—দুটিই বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা। রাউতি ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের আশরাফ আহমেদ বলেন, এবার কিছুটা আগেভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই পরিবারের জন্য লেপ-তোষক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন তাঁরা। পাশাপাশি মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় মেয়ে ও জামাতার জন্যও লেপ-তোষক এবং বালিশ কিনতে হচ্ছে।

তবে তুলাসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে। তাঁর ভাষ্য, আগে যে তুলা কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় পাওয়া যেত,এখন তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার তুলার দাম বেশি হওয়ায় লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে। রিকশাচালক জামাল উদ্দীন বলেন, বাড়িতে শীতের লেপ না থাকায় বাজারে তুলা কিনতে এসেছেন। তুলা কিনে বাড়িতে নিয়ে নিজেই লেপ তৈরি করবেন।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার তুলার দাম অনেক বেশি বলে জানান তিনি। তাড়াইল সদর বাজারের তুলার দোকানি তাজুল ইসলাম ও আবদুল হাই বলেন, বছরের দুই থেকে তিন মাস তাঁদের ব্যবসার মূল মৌসুম। এ সময় লেপ-তোষকের চাহিদা বাড়ে এবং কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করেন। কিন্তু বছরের বাকি আট থেকে নয় মাস তুলনামূলক কম বেচাকেনা হয়। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় লেপ-তোষক বিক্রি শুরু হয়েছে।

শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াইলে লেপ-তোষকের চাহিদা ও বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। তবে তুলার বাড়তি দামের কারণে লেপ-তোষক তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। শীতের মৌসুমে চাহিদা বাড়লে কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি আয়ও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জনতা ব্যাংকে সাইবার হামলা হয়নি, বিভ্রান্তিকর সংবাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদ

শীত আসতেই তাড়াইলে লেপ-তোষক তৈরির ধুম, বেড়েছে তুলার দাম

Update Time : 05:44:18 pm, Saturday, 24 October 2026

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে লেপ-তোষকের বাজার। শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে লেপ, তোষک ও বালিশ তৈরি করাতে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

এতে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। তবে তুলার দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা হওয়ায় বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরির খরচ। ফলে চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও কারিগররা। হেমন্তের শুরুতেই দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরে ঘাস-লতাপাতার ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

পৌষ ও মাঘ দুই মাস শীতকাল হিসেবে পরিচিত হলেও আগেভাগেই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাচ্ছেন তারা। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরির কারিগর ও দোকানিদের। তবে বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাড়াইল সদর বাজারের বড় মসজিদ রোড এলাকার তুলার দোকান ও লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়।

কেউ নিজের পরিবারের জন্য,আবার কেউ মেয়ের সংসারের জন্য লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাতে এসেছেন। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগররা। উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের লেপ-তোষকের কারিগর মুহাম্মাদ আলী ও রোকন মিয়া বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় তাঁদের অলস সময় কাটাতে হয়। শীতের দুই থেকে তিন মাসই তাঁদের মূল মৌসুম।

গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী লেপ-তোষক তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেন, তোষক তৈরিতে ২০০ টাকা, লেপে ২০০ টাকা এবং জাজিম তৈরিতে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দুজন কারিগর মিলে প্রায় ৩০ মিনিটে একটি লেপ, তোষক বা জাজিম তৈরি করতে পারেন। প্রত্যেকে প্রতিদিন ছয় থেকে সাতটি লেপ তৈরি করেন।

এতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি আয় হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের চাপ ও আয়—দুটিই বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা। রাউতি ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের আশরাফ আহমেদ বলেন, এবার কিছুটা আগেভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই পরিবারের জন্য লেপ-তোষক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন তাঁরা। পাশাপাশি মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় মেয়ে ও জামাতার জন্যও লেপ-তোষক এবং বালিশ কিনতে হচ্ছে।

তবে তুলাসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে। তাঁর ভাষ্য, আগে যে তুলা কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় পাওয়া যেত,এখন তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার তুলার দাম বেশি হওয়ায় লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে। রিকশাচালক জামাল উদ্দীন বলেন, বাড়িতে শীতের লেপ না থাকায় বাজারে তুলা কিনতে এসেছেন। তুলা কিনে বাড়িতে নিয়ে নিজেই লেপ তৈরি করবেন।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার তুলার দাম অনেক বেশি বলে জানান তিনি। তাড়াইল সদর বাজারের তুলার দোকানি তাজুল ইসলাম ও আবদুল হাই বলেন, বছরের দুই থেকে তিন মাস তাঁদের ব্যবসার মূল মৌসুম। এ সময় লেপ-তোষকের চাহিদা বাড়ে এবং কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করেন। কিন্তু বছরের বাকি আট থেকে নয় মাস তুলনামূলক কম বেচাকেনা হয়। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় লেপ-তোষক বিক্রি শুরু হয়েছে।

শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াইলে লেপ-তোষকের চাহিদা ও বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। তবে তুলার বাড়তি দামের কারণে লেপ-তোষক তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। শীতের মৌসুমে চাহিদা বাড়লে কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি আয়ও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।