আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ১৯৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা এনসিপির

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:17:36 pm, Friday, 23 October 2026
  • 19

সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ১৯৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা এনসিপির

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং দলীয় রাজনীতিতে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে রদবদলের পাশাপাশি আসন্ন কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারেরও পরিকল্পনা করেছে দলটি।

এনসিপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নতুন কমিটির সদস্যরা নিজ দায়িত্ব ও পদ অনুযায়ী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বের পুনর্গঠন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে কাউন্সিল সামনে রেখে দেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটকে সক্রিয় করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠার পর পৌনে দুই বছরে জাতীয় সম্মেলন করতে না পারলেও শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনল চব্বিশের অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া দল এনসিপি। পুনর্গঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেন পুনর্বহাল রয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে এসেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। হাসনাত আবদুল্লাহ শুরু থেকে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল); আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক পদে ছিলেন।

দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদ দেওয়া হয়েছে। নতুন পুনর্গঠিত কমিটিতে সারজিস ও আসিফ অন্যদের তুলনায় দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন। আগের কমিটির দুই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব নতুন কমিটিতে হয়েছেন কেবলই যুগ্ম আহ্বায়ক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। এরপর ১ মার্চ ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলটি। এরপর প্রায় ২০ মাসের মাথায় সেই কমিটি পুনর্গঠন করে ১৯৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদও পুনর্গঠন করা হয়েছে, যাতে স্থান পেয়েছেন ১৬ জন। পুনর্গঠিত কমিটির বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ উদ্দিন সিফাত রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে প্রত্যেক নেতার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে সবার জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও পোর্টফোলিও নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ করবেন, কেউ অর্থনীতি, আবার কেউ পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করবেন। আগে এভাবে দায়িত্ব ভাগ করা ছিল না। এখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যার দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দলের প্রতিটি খাতে কাজের গতি বাড়বে এবং দায়িত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক কাউন্সিল আয়োজন করা। সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে, যাতে কাউন্সিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারেন। এই কমিটি পুনর্গঠনের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে।

প্রথমত, প্রতিটি খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে তাদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। দ্বিতীয়ত, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যাতে নেতাকর্মীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিতে পারেন। আমরা চাই, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

’ এদিকে পুনর্গঠিত কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে— অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল, এ কে ফ্লোরা।

সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে— মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। এ ছাড়া যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস এম সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক, মো. আতাউল্লাহকে। আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন।

দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহদপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখারুল ইসলাম। আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারি ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহপ্রচার সম্পাদক হয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন।

শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহশিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন সাকিব শাহরিয়ার। বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা : ঢাকা (উত্তর) বিভগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী। চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ এস এম সুজাউদ্দীন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাওয়াদুল করিম।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাকিব মাহাদী। চট্টগ্রাম (উত্তর) বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম সৈকত। তালিকা অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ।

এ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ। সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিন ইরা এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা রহমতুল্লাহ। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. শামীম হামিদী।

এ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তানহা শান্তা। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন। সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুর রহমান অপু। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) হিসেবে রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

একই বিভাগে সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ। নারীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহপরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ-মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সহধর্ম সম্পাদক হিসেবে সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।

সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে লুৎফর রহমান এবং সহসংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে মেহেরাব সিফাত দায়িত্ব পেয়েছেন। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাইয়েদ জামিল এবং সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে মাহবুব আলমের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ তানজিম।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চট্টগ্রামে সাংবাদিককে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ১৯৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা এনসিপির

Update Time : 10:17:36 pm, Friday, 23 October 2026

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং দলীয় রাজনীতিতে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে রদবদলের পাশাপাশি আসন্ন কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারেরও পরিকল্পনা করেছে দলটি।

এনসিপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নতুন কমিটির সদস্যরা নিজ দায়িত্ব ও পদ অনুযায়ী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বের পুনর্গঠন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে কাউন্সিল সামনে রেখে দেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটকে সক্রিয় করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠার পর পৌনে দুই বছরে জাতীয় সম্মেলন করতে না পারলেও শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনল চব্বিশের অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া দল এনসিপি। পুনর্গঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেন পুনর্বহাল রয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে এসেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। হাসনাত আবদুল্লাহ শুরু থেকে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল); আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক পদে ছিলেন।

দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদ দেওয়া হয়েছে। নতুন পুনর্গঠিত কমিটিতে সারজিস ও আসিফ অন্যদের তুলনায় দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন। আগের কমিটির দুই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব নতুন কমিটিতে হয়েছেন কেবলই যুগ্ম আহ্বায়ক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। এরপর ১ মার্চ ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলটি। এরপর প্রায় ২০ মাসের মাথায় সেই কমিটি পুনর্গঠন করে ১৯৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদও পুনর্গঠন করা হয়েছে, যাতে স্থান পেয়েছেন ১৬ জন। পুনর্গঠিত কমিটির বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ উদ্দিন সিফাত রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে প্রত্যেক নেতার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে সবার জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও পোর্টফোলিও নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ করবেন, কেউ অর্থনীতি, আবার কেউ পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করবেন। আগে এভাবে দায়িত্ব ভাগ করা ছিল না। এখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যার দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দলের প্রতিটি খাতে কাজের গতি বাড়বে এবং দায়িত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক কাউন্সিল আয়োজন করা। সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে, যাতে কাউন্সিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারেন। এই কমিটি পুনর্গঠনের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে।

প্রথমত, প্রতিটি খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে তাদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। দ্বিতীয়ত, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যাতে নেতাকর্মীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিতে পারেন। আমরা চাই, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

’ এদিকে পুনর্গঠিত কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে— অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল, এ কে ফ্লোরা।

সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে— মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। এ ছাড়া যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস এম সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক, মো. আতাউল্লাহকে। আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন।

দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহদপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখারুল ইসলাম। আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারি ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহপ্রচার সম্পাদক হয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন।

শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহশিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন সাকিব শাহরিয়ার। বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা : ঢাকা (উত্তর) বিভগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী। চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ এস এম সুজাউদ্দীন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাওয়াদুল করিম।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাকিব মাহাদী। চট্টগ্রাম (উত্তর) বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম সৈকত। তালিকা অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ।

এ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ। সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিন ইরা এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা রহমতুল্লাহ। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. শামীম হামিদী।

এ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তানহা শান্তা। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন। সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুর রহমান অপু। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) হিসেবে রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

একই বিভাগে সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ। নারীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহপরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ-মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সহধর্ম সম্পাদক হিসেবে সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।

সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে লুৎফর রহমান এবং সহসংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে মেহেরাব সিফাত দায়িত্ব পেয়েছেন। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাইয়েদ জামিল এবং সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে মাহবুব আলমের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ তানজিম।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।