গুজব, উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গাজীপুরের পূর্ব চান্দরা শ্রী শ্রী কালী ও দুর্গা মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় কাজ করছে ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপসের’ মাধ্যমে তথ্য প্রদানকারী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে যুক্ত রয়েছেন।
এর ফলে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হচ্ছে। আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক বলেন, তৃণমূল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ আনসার-ভিডিপিকে পাশে পাবে। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কোনো গোষ্ঠী যেন গুজব, উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। প্রশাসনিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্গোৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
পরিদর্শনকালে বাহিনীর জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক। তিনি কর্মহীন যুবক-যুবতীদের আনসার-ভিডিপির দক্ষতাভিত্তিক ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বেকারত্ব হ্রাস, জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন।






















