পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ানোর পেছনে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ভূমিকা রাখায় ছয়টি কোম্পানিকে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন পেসো বা ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা) জরিমানা করার কথা জানিয়েছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০২২ সালে ফিলিপাইনের পেঁয়াজের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে প্রতি কেজি ৮০০ পেসোতে (তখন ১ পেসো সমান ১ দশমিক ৭০ টাকা হিসাবে ১ হাজার ৩৬৬ টাকা) পৌঁছায়, যা দেশটির দৈনিক ন্যূনতম মজুরি এবং মাংসের দামকেও ছাড়িয়ে যায়। এই সংকট তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, যিনি ক্রমবর্ধমান খাদ্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশন (পিসিসি) জানিয়েছে, পেঁয়াজ আমদানিকারক এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত এই জরিমানা ২০১৬ সালে কমিশনটি গঠনের পর থেকে সর্ববৃহৎ। ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত কয়েক মাস ধরে রেস্তোরাঁর মেনু থেকে পেঁয়াজ উধাও হয়ে গিয়েছিল এবং তা চোরাচালানের প্রচেষ্টার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
এই কন্দজাতীয় সবজিটি একপ্রকার মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, কারণ এটি অন্তত একবার বিয়ের তোড়া হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট মার্কোস এই ঘাটতির পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেছিলেন, ‘তাদের কৃতকর্মের কারণে ফিলিপিনোরা অনাহার ও দারিদ্র্যে মারা যাচ্ছে।
’ ২০২৩ সালের শেষের দিকে স্থানীয় বাম্পার ফলন বাজারে আসায় এবং দাম স্থিতিশীল হওয়ায় সংকটের অবসান ঘটে। মূল্য সংকট তদন্তের জন্য গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি বলেছে, পেঁয়াজের দামের ‘কৃত্রিম’ বৃদ্ধির পেছনে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। পিসিসি বলেছে, কোম্পানিগুলোতে চালানো অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রমাণে দেখা গেছে যে, ২০২০ ও ২০২১ সালে পেঁয়াজের অনুমোদিত মোট আমদানি ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্মিলিতভাবে এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
কমিশন জানিয়েছে, তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে সিন্ডিকেটের এক সদস্য পরিকল্পিতভাবে অন্য আমদানিকারকদের নথিপত্র ব্যবহার করে স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ ও স্বাস্থ্যগত) আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করত। তারা একই আমদানিকারকদের পণ্য গ্রহণকারী (কনসাইনি) হিসেবে উল্লেখ করত, অনুমতির বরাদ্দ পর্যবেক্ষণ করত এবং পুরো আমদানি প্রক্রিয়া সমন্বয় করত।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে এই সিন্ডিকেট ২০২০ ও ২০২১ সালে লাল ও হলুদ পেঁয়াজ আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। তারা আমদানি করা পেঁয়াজ কোল্ড স্টোরেজে নিয়ে সেখান থেকে সারা দেশে সরবরাহ করত। প্রতিযোগিতা বিষয়ক আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও বর্তাতে পারে।
সে ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পিসিসির নির্বাহী পরিচালক কেনেথ তানাতে বলেন, ‘সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপের মাধ্যমে পিসিসি এটিই প্রমাণ করল যে অর্থনীতির যেকোনো খাতে সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।
























