নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজনই মারা গেছেন। রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ রনি (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজনেরই মৃত্যু হলো। এর আগে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় একটি আবাসিক ঘরে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিকট শব্দে আগুন ধরে যায়।
এতে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোগীদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসার চেষ্টা চালানো হলেও দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়া এবং শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত (ইনহেলেশন বার্ন) হওয়ায় কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে মারা যান রোজিনা (৩০)। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ৪টায় মারা যান শরীফ (৩৪)। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মারা যান রিয়াজ (২২)। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং শ্বাসনালিতে আঘাত ছিল।
সবশেষে শুক্রবার সকালে মারা যান রনি (১৯)। তার শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।






















