আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫০%

নওগাঁর মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:38:23 pm, Wednesday, 14 October 2026
  • 23

নওগাঁর মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে চাহিদার তুলনায় সার বরাদ্দ কম পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের জয়বাংলা মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

পরে স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মান্দা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য তারা জমি প্রস্তুত করছেন। এ সময় পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োজন হলেও চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না তারা।

সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ বস্তা ডিএপি, ২ হাজার ৫০০ বস্তা এমওপি (পটাশ) এবং ১ হাজার বস্তা টিএসপি সারের চাহিদা রয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে এই ইউনিয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২০০ বস্তা ডিএপি, ৯০ বস্তা টিএসপি ও ১৮২ বস্তা এমওপি সার।

ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নে বিসিআইসির নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার হিসেবে রয়েছেন মেসার্স আবুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন। তবে বিএডিসির কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার নেই। ডিলারভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ায় এ ইউনিয়নে সারের বরাদ্দ কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইউনিয়নের ছোট মুল্লুক গ্রামের কৃষক শ্রীমান আলি মোল্লা বলেন, ‘এ মৌসুমে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি।

এখন কয়েক বস্তা সার প্রয়োজন। সারের জন্য রাত ৩টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো সার পাইনি। সার না পেলে ফসল করব কীভাবে। ’ একই গ্রামের কৃষক অখিল চন্দ্র বলেন, ‘এ মৌসুমে আমার অন্তত ২৫ বস্তা সার লাগবে। সময়মতো সার না পেলে ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ’ কালিকাপুর ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার আবুল হোসেন বলেন, অক্টোবর মাসে তিনি সামান্য সার বরাদ্দ পেয়েছেন।

চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসেই আরও এক দফা সার বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। নতুন বরাদ্দের সার পৌঁছালে সংকট থাকবে না বলেও আশা করছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রাণীনগরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ, প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

নওগাঁর মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

Update Time : 06:38:23 pm, Wednesday, 14 October 2026

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে চাহিদার তুলনায় সার বরাদ্দ কম পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের জয়বাংলা মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

পরে স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মান্দা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য তারা জমি প্রস্তুত করছেন। এ সময় পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োজন হলেও চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না তারা।

সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ বস্তা ডিএপি, ২ হাজার ৫০০ বস্তা এমওপি (পটাশ) এবং ১ হাজার বস্তা টিএসপি সারের চাহিদা রয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে এই ইউনিয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২০০ বস্তা ডিএপি, ৯০ বস্তা টিএসপি ও ১৮২ বস্তা এমওপি সার।

ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নে বিসিআইসির নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার হিসেবে রয়েছেন মেসার্স আবুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন। তবে বিএডিসির কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার নেই। ডিলারভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ায় এ ইউনিয়নে সারের বরাদ্দ কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইউনিয়নের ছোট মুল্লুক গ্রামের কৃষক শ্রীমান আলি মোল্লা বলেন, ‘এ মৌসুমে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি।

এখন কয়েক বস্তা সার প্রয়োজন। সারের জন্য রাত ৩টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো সার পাইনি। সার না পেলে ফসল করব কীভাবে। ’ একই গ্রামের কৃষক অখিল চন্দ্র বলেন, ‘এ মৌসুমে আমার অন্তত ২৫ বস্তা সার লাগবে। সময়মতো সার না পেলে ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ’ কালিকাপুর ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার আবুল হোসেন বলেন, অক্টোবর মাসে তিনি সামান্য সার বরাদ্দ পেয়েছেন।

চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসেই আরও এক দফা সার বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। নতুন বরাদ্দের সার পৌঁছালে সংকট থাকবে না বলেও আশা করছেন তারা।