আজ বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৭%

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা: রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:30:53 am, Wednesday, 14 October 2026
  • 12

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা: রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার পর আতঙ্কিত যাত্রীরা মেঝেতে আশ্রয় নেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক এই হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের এই হামলা মোকাবিলায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের আরও সরাসরি সহায়তা চাইছে রিয়াদ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়। পরদিন রোববার আবারও হামলা হয়। এতে আরও একজন নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সোমবার রাতেও হামলার ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর ছাড়াও সৌদি আরবের তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুতিদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা রিয়াদগামী উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এমনকি রিয়াদে নির্ধারিত একটি বড় জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিতে আসা কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও শেষ মুহূর্তে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষায় কোথায় দুর্বলতা : সৌদি আরব সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে এবং উন্নত অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর অন্যতম।

তবু হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দেশটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছেÑ কেন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হামলাগুলো পুরোপুরি প্রতিহত করতে পারেনি এবং আগাম সতর্কবার্তা কেন পাওয়া যায়নি। আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হুতিদের সমন্বিত হামলার কৌশলের বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রথমে একাধিক ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত করা হয়। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুতিদের হাতে থাকা কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনোর মতে, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে পারলেও দেশটির বিশাল ভূখ-ের প্রতিটি অংশ সব সময় সুরক্ষিত রাখা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন।

সামরিক বিশ্লেষকেরা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অতীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাও সহজ নয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গোষ্ঠীটির সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া কতটা জটিল।

ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরামর্শ ও অর্থায়নে হুতিরা নিজেদের অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় রিয়াদ : হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি।

তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরান ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে দেশটিতে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে ভোটারদের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে হুতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংঘাতের কেন্দ্রে ইরান : হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানের পেছনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও কাজ করছে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ইরান হুতিদের সমর্থন করে। হুতিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আরও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও অভিযান বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

ফলে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ : সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়ার মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এখনই সামরিক জবাব দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে হুতিরা নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করলেও সংঘাতের পরিণতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের পাল্টা হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা এবং ইরানের ভূমিকাÑ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ববাজারে, বাড়তে পারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি। রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা তাই শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার সংকট নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে, তারও সতর্কসংকেত।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চুয়েট ভিসি, দ্রুত ক্যাম্পাসে ফেরার পরামর্শ সরকারের

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা: রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Update Time : 09:30:53 am, Wednesday, 14 October 2026

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার পর আতঙ্কিত যাত্রীরা মেঝেতে আশ্রয় নেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক এই হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের এই হামলা মোকাবিলায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের আরও সরাসরি সহায়তা চাইছে রিয়াদ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়। পরদিন রোববার আবারও হামলা হয়। এতে আরও একজন নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সোমবার রাতেও হামলার ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর ছাড়াও সৌদি আরবের তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুতিদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা রিয়াদগামী উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এমনকি রিয়াদে নির্ধারিত একটি বড় জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিতে আসা কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও শেষ মুহূর্তে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষায় কোথায় দুর্বলতা : সৌদি আরব সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে এবং উন্নত অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর অন্যতম।

তবু হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দেশটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছেÑ কেন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হামলাগুলো পুরোপুরি প্রতিহত করতে পারেনি এবং আগাম সতর্কবার্তা কেন পাওয়া যায়নি। আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হুতিদের সমন্বিত হামলার কৌশলের বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রথমে একাধিক ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত করা হয়। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুতিদের হাতে থাকা কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনোর মতে, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে পারলেও দেশটির বিশাল ভূখ-ের প্রতিটি অংশ সব সময় সুরক্ষিত রাখা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন।

সামরিক বিশ্লেষকেরা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অতীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাও সহজ নয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গোষ্ঠীটির সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া কতটা জটিল।

ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরামর্শ ও অর্থায়নে হুতিরা নিজেদের অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় রিয়াদ : হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি।

তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরান ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে দেশটিতে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে ভোটারদের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে হুতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংঘাতের কেন্দ্রে ইরান : হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানের পেছনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও কাজ করছে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ইরান হুতিদের সমর্থন করে। হুতিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আরও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও অভিযান বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

ফলে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ : সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়ার মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এখনই সামরিক জবাব দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে হুতিরা নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করলেও সংঘাতের পরিণতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের পাল্টা হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা এবং ইরানের ভূমিকাÑ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ববাজারে, বাড়তে পারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি। রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা তাই শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার সংকট নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে, তারও সতর্কসংকেত।