আজ সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬%

চবি অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে বার্লিনে সমাবেশ

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:20:30 pm, Monday, 12 October 2026
  • 12

চবি অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে বার্লিনে সমাবেশ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বার্লিনের ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গার গেটের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এই সময় সমাবেশে অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, পোস্টটি তার ব্যক্তিগত ও লক করা ফেসবুক প্রোফাইলে শুধু বন্ধুদের উদ্দেশে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি গণতন্ত্র ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছিলেন। অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী বর্তমানে জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত মিউজিয়াম ফ্যুর নাটুরকুন্ডে (Museum für Naturkunde) অতিথি বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার গবেষণা চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টের গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও গবেষণায় সম্পৃক্ত। এর আগে তিনি বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের কারণে একজন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা তার চলমান আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা উদ্বেগ জানান। অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিও সমাবেশে গুরুত্ব পায়। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান জার্মানিতে বসবাস করছেন। পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং চলমান অনিশ্চয়তা তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান।

এ ছাড়া হৃদ্‌রোগের কারণে ২০২৪ সালে জার্মানিতে তার চিকিৎসা ও স্টেন্ট স্থাপন করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এদিকে, গত ৭ অক্টোবর জার্মানিতে বসবাসরত অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর বন্ধু, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে প্রদান করার জন্যে একটি লিখিত আবেদন প্রস্তুত করা হয়।

আবেদনে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পেশাজীবী, অভিবাসী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এতে স্বাক্ষর প্রদান করে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটিকে লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও গবেষণার অবদান, তার চলমান আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রম এবং পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির ন্যায়সংগত সমাধান করবে। প্রতিবাদকারীরা একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন শিক্ষাবিদ রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

চবি অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে বার্লিনে সমাবেশ

Update Time : 05:20:30 pm, Monday, 12 October 2026

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বার্লিনের ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গার গেটের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এই সময় সমাবেশে অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, পোস্টটি তার ব্যক্তিগত ও লক করা ফেসবুক প্রোফাইলে শুধু বন্ধুদের উদ্দেশে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি গণতন্ত্র ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছিলেন। অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী বর্তমানে জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত মিউজিয়াম ফ্যুর নাটুরকুন্ডে (Museum für Naturkunde) অতিথি বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার গবেষণা চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টের গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও গবেষণায় সম্পৃক্ত। এর আগে তিনি বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের কারণে একজন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা তার চলমান আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা উদ্বেগ জানান। অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিও সমাবেশে গুরুত্ব পায়। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান জার্মানিতে বসবাস করছেন। পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং চলমান অনিশ্চয়তা তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান।

এ ছাড়া হৃদ্‌রোগের কারণে ২০২৪ সালে জার্মানিতে তার চিকিৎসা ও স্টেন্ট স্থাপন করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এদিকে, গত ৭ অক্টোবর জার্মানিতে বসবাসরত অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর বন্ধু, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে প্রদান করার জন্যে একটি লিখিত আবেদন প্রস্তুত করা হয়।

আবেদনে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পেশাজীবী, অভিবাসী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এতে স্বাক্ষর প্রদান করে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটিকে লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও গবেষণার অবদান, তার চলমান আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রম এবং পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির ন্যায়সংগত সমাধান করবে। প্রতিবাদকারীরা একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।