আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় ১১৬ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছে। নৌকাটিতে তিন শতাধিক মানুষ ছিল বলে জানা গেছে।
তাদের মধ্যে ৮০ জনের বেশি প্রাণে বেঁচেছে। বেঁচে যাওয়া সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। সূত্র : আল-জাজিরা। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের আগপর্যন্ত জিবুতির পূর্ব উপকূলের গুহেরে এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর জিবুতির উদ্ধারকারী দল তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো শুরু করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দিচ্ছে আইওএম। জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা অভিবাসীদের অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে যাত্রার পথে যে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়, তা আবারও মনে করিয়ে দেয়।
জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ কিলোমিটার। আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের দেশগুলো থেকে হাজারো অভিবাসী এই বিপজ্জনক পানিপথ পাড়ি দিয়ে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের অনেকে কাজ ও নিরাপদ জীবনের আশায় এ পথে যাত্রা করে। আইওএম জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের আগমন নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
গত বছরও এই পথ ধরে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল ৫ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন নিহত হয়েছে অথবা নিখোঁজ রয়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দেশটি থেকে কয়েক হাজার মানুষ আবার জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও জীবিকা ও নিরাপত্তার আশায় অভিবাসীদের বিপজ্জনক এই সমুদ্রপথে যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।






















