নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নজরুল উৎসবে মঞ্চস্থ হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে রচিত কোরিওগ্রাফি নাটক ‘বিদ্রোহী নজরুল’। শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক সংগঠন জনতা থিয়েটারের এটি প্রথম পরিবেশনা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিক ও নাট্যকার বিকুল চক্রবর্তীর রচনা এবং সংস্কৃতিজন শ্যামল আচার্য্যের পরিচালনায় ২০ মিনিটের নাটকটিতে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়। কবির শৈশব থেকে শুরু করে সৈনিকজীবন, বিদ্রোহী কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ, ব্রিটিশবিরোধী লেখালেখি, কারাবরণ, অনশন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা এবং জীবনের শেষ অধ্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ উঠে আসে আটটি দৃশ্যে।
নাটকের প্রথম দৃশ্য ‘চুরুলিয়ার দুখু’তে অভাব-অনটনের মধ্যেও স্বপ্ন দেখা শিশু নজরুলের মানসজগৎ তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় দৃশ্য ‘সৈনিক থেকে কবি’তে ও সৈনিকজীবনের পাশাপাশি তার সাহিত্যচর্চা এবং কলমকে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে। তৃতীয় দৃশ্য ‘বিদ্রোহী’তে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে কবির দৃপ্ত উচ্চারণ তুলে ধরা হয়।
‘ধূমকেতু’ ও গ্রেপ্তার, কারাগারে ‘রাজবন্দীর জবানবন্দি’ রচনা এবং অনশনের দৃশ্যগুলোতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের প্রতিবাদী অবস্থান তুলে ধরা হয়। সপ্তম দৃশ্য ‘ধর্ম নয়, মানুষ’-এ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবতা ও মানুষের মর্যাদার বার্তা দেওয়া হয়। শেষ দৃশ্য ‘নীরব কবি, অমর কণ্ঠ’-এ অসুস্থতার কারণে কবির কণ্ঠ নীরব হয়ে এলেও তার আদর্শ ও প্রতিবাদী চেতনা চিরজাগরূক থাকার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়।
নাটকটির মূল বার্তা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাম্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার জয়গান। সংলাপ, আবৃত্তি, কোরাস ও কোরিওগ্রাফির সমন্বয়ে পরিবেশিত নাটকটিতে কবির জীবন ও দর্শন দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। নাটকে কাজী নজরুল ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করেন সুধেন্দু ভট্টাচার্য্য।
কাজী নজরুলের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন রহিমা বেগম, কিশোর নজরুলের চরিত্রে অভিনয় করেন শিশু শিল্পি আদিবা, বিট্রিশ পুলিশ চরিত্রে অভিনয় করেন মাহবুবুর রহমান লিংক, কারারক্ষী চরিত্রে অভিনয় করেন অলক পাল, সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেন বিকুল চক্রবর্তী, এছাড়াও আরো বিভিন্ন চিরিত্রে অভিনয় করেন রমা গুহ, অনুরাধা ও রফিক মিয়া। নাটকের বর্ণনা ও পরিচালনায় ছিলেন শ্যামল আচার্য্য।
























