বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষায় সর্বদলীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে ফ্যাসিবাদ টিকে থাকতে পারে না। ঐক্যবদ্ধ জাতি ছিল বলেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের নির্মম শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দলের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধর বিকল্প নেই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকারের ভালো কাজগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে সরকারের কোনো ভুলত্রুটি চোখে পড়লে তাও ধরিয়ে দিতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বর্তমান সরকার কোনো কারণে ব্যর্থ হলে বা ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান ভিন্নতর বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও সাধারণ জীবনধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন।
তিনি তার বাবার পথ অনুসরণ করছেন। ঢাকা শহরে শহীদ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের কোনো বাড়ি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানকে সামরিক বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি প্লট দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি সেই প্লট অন্য একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে দেন। এরপর তিনি আর প্লট নেননি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানও প্লট নেননি বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলার স্বাধীনতা বন্ধ করেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হাসিনা কোনো স্থানে গেলে আগে থেকেই সবকিছু বন্ধ করে রাখতে হতো। এখন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দাপ্তরিক কাজ করছেন, কিন্তু সভা-সমাবেশ বন্ধ হয়নি।
যে কেউ মাইক বাজিয়ে সভা করতে পারেন। তিনি বলেন, আমি বিএনপি করে বলছি না। তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান যেমন ঠিক, তেমনি তিনি দেশেরও প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবার প্রধানমন্ত্রী। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়া কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন।
কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগের প্রশংসা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু সমালোচনা করলে সরকারকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আবার কোনো কাজ ভুল হচ্ছে বলে মনে হলে সরকারকে তা জানাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কিছু কিছু জায়গায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষ প্রশ্ন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে আরও কঠোর হতে হবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের আস্থা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এই সরকার কোনো কারণে ফেল করে, কোনো কারণে ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। দেশের গণতন্ত্র ও বর্তমান সরকারকে রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটি সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।






















