দীর্ঘ ১০ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিলেন নিক ম্যাডিনসন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে আলোচনায় আসার সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটারের। তবে ব্যাট হাতে বিব্রতকর এক রেকর্ড গড়েই ফিরতে হলো তাকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৩ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি ম্যাডিনসন। পরে মার্কো জানসেনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ২০০০ সালের পর টেস্টে সবচেয়ে বেশি বল খেলে শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড এখন ম্যাডিনসনের। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই তালিকায় তার অবস্থান তৃতীয়। ১৯৯৫ সালে নিউজিল্যান্ডের ডারিন মুরে ৩৯ বল খেলে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন।
২০০০ সালে জিম্বাবুয়ের ট্রেভর গ্রিপার ৩৬ বল মোকাবিলা করেও রান করতে পারেননি। এবার ৩৩ বলে শূন্য রানে আউট হয়ে সেই তালিকায় জায়গা করে নিলেন ম্যাডিনসন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ম্যাডিনসনের। তখন তাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নিউজিল্যান্ডে ২০১০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
ওই দল থেকে উঠে এসে মিচেল মার্শ, জশ হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পা ও কেইন রিচার্ডসনের মতো ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু ম্যাডিনসনের ক্যারিয়ার প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। অভিষেকের পর তিনটি টেস্ট খেলেই দল থেকে ছিটকে যান তিনি। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে ক্রিকেট থেকে বিরতিও নিতে হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহে ওয়ানডে কাপে ভালো একটি ইনিংস খেলে আবারও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ডাক পান ৩৪ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার।
অথচ গত ১৮ মাসে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলেননি তিনি। ম্যাডিনসনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে আলোচনার আরেকটি কারণ তার কঠিন জীবনসংগ্রাম। ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষে তার শরীরে ধরা পড়ে টেস্টিকুলার ক্যানসার। অস্ত্রোপচারের পরও রোগটি শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তাকে কেমোথেরাপি নিতে হয়। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে গত ৩ জানুয়ারি আবারও মাঠে ফেরেন তিনি। সর্বশেষ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
সেই ম্যাচে টেম্বা বাভুমার দল শিরোপা জিতেছিল। এবার দুই দলের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ম্যাডিনসনের প্রত্যাবর্তন ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তবে মাঠে ফেরার দিনটি স্মরণীয় হলো না তার; বরং ৩৩ বলে শূন্য রানের ইনিংসই হয়ে থাকল আলোচনার বিষয়।





















