মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা-বাগানে কাগজে-কলমে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত নাজুক। জীর্ণ অবকাঠামো, পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে বছরের পর বছর ধরে ব্যাহত হচ্ছে চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা।
জেলার চা-বাগানে শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিটি ডিসপেনসারিতে নিয়মিত চিকিৎসক, মিডওয়াইফ বা নার্স এবং সাপোর্ট স্টাফ থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ বাগানেই নেই কোনো এমবিবিএস ডাক্তার। অনেক জায়গায় কম্পাউন্ডারদের ওপর ভর করেই চলছে চিকিৎসাব্যবস্থা। চা-শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল আছে, কিন্তু নেই নিয়মিত চিকিৎসা; ওষুধ আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সব ওষুধ নেই; চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, কিন্তু নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক।
বছরের পর বছর ধরে এমন বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন হাজার হাজার চা-শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। বাগানের অনেক চিকিৎসাকেন্দ্রেই নেই এমবিবিএস ডাক্তার। কোথাও দায়িত্বে থাকা কম্পাউন্ডারকেই সামলাতে হয় রোগীদের। চা-শ্রমিকরা জানান, চা-বাগানে চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। অসুস্থ হলে আমাদের দূরে গিয়ে ওষুধ কিনতে হয়।
তাই প্রতিটি বাগানে যোগ্য চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান তারা। দেওরাছড়া চা-বাগান মিডওয়াইফ ঊর্মি কানু বলেন, এখানে একজন সরকারি এমবিবিএস ডাক্তার দেওয়া হলে চা-শ্রমিকরা অনেক উপকৃত হতেন। তারা দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন না। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত হলে শহরে যাওয়ার চাপও কমবে বলে জানান তিনি।
পাত্রকলা চা-বাগান কম্পাউন্ডার রাজকুমার গঞ্জু জানান, বাগানগুলোয় এমবিবিএস ডাক্তারের প্রধান সংকট রয়েছে এবং মূলত কম্পাউন্ডারদের মাধ্যমেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিয়মিত একজন মেডিকেল অফিসার থাকলে চা-শ্রমিকরা আরও ভালো চিকিৎসাসেবা পেতেন বলে জানান তারা। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম চা-বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসাব্যবস্থা খুবই নাজুক বলে জানান, আমি নিজেও কয়েকটি ডিসপেনসারি ও বাগান পরিদর্শন করেছি।
চা-বাগানে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে বাগান মালিকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ চা-বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, বাগান কর্তৃপক্ষ ফাস্ট এইডের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছেন। এরপরও বাংলাদেশ চা-বোর্ডের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে আমরা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছি।





















