লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ ভবনই অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ অব্যাহত থাকায় নগর ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পৌর এলাকার একটি বড় অংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে অগ্নিকা-, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌর এলাকায় মোট ৪ হাজার ৬১৪টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ভবনের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৩৬৫টি। অর্থাৎ প্রায় তিন হাজার ২৪৯টি ভবনের অনুমোদনের তথ্য নেই, যা মোট ভবনের প্রায় ৭০ শতাংশ।
সূত্র আরও জানায়, পৌর এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদন, রাস্তার প্রস্থ, ভবনের উচ্চতা, অগ্নিনিরাপত্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খোলা জায়গা রাখার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। এদিকে ভবন মালিকদের অভিযোগ, অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় আবেদন করলেও নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়া যায় না। তবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আসছে।
জাহাঙ্গীর আলম নামের সাতারপাড়ার এক ভবন মালিক বলেন, ভবন অনুমোদনের জন্য বছরের পর বছর পৌরসভা হাঁটতে হয়। তারপরও অনুমোদনের নিশ্চিয়তা পাওয়া যায় না। এজন্য অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করছেন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, চাকরিজীবী ফারুক হোসেনসহ সচেতন মহলের মতে, যদি পৌর এলাকার অধিকাংশ ভবনেরই অনুমোদন না থাকে, তা হলে এতদিন এসব ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পৌরসভার তদারকি কোথায় ছিল?
অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কীভাবে এবং এর দায়ই বা কার? তাদের দাবি, অনুমোদনহীন ভবনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী আতিকুর রহমান জানান, রামগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভবন অনুমোদন কমিটি ছিল না।
নকশাকারকও ছিল না। তাই অনুমোদন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। শিগগিই আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।






















