আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব এলাকায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা গেলে সামগ্রিক পরিবেশদূষণ অনেকটাই কমে আসবে।
একই সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রাণী সংকটসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দূর করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি বর্তমানে দেশের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সাভারের আমিনবাজারে প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই এই উদ্যোগের ইতিবাচক সুফল দেশবাসী দেখতে পাবে। সাফারি পার্ক পরিদর্শনের সময় বনের ভেতরে ময়লা ফেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির বর্জ্য গভীর রাতে ভাওয়াল বনের ভেতরে ফেলা হচ্ছে।
এই বেআইনি কর্মকা- বন্ধে ইতোমধ্যে তিনি চিঠি দিয়েছেন এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও কথা বলেছেন। সাফারি পার্ক থেকে লেমুর ভারতে পাচারের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয় জড়িত থাকায় এই ঘটনার তদন্তে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তদন্তে পার্কের কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পার্কের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যাওয়া নীলগাইটিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি। এর আগে মন্ত্রী ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল এবং মানুষের বিনোদনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। এ ছাড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও যাতায়াত সমস্যা সমাধানে চলতি মাসেই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকের ঘোষণা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এবং ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইনসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















