আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৯%

মাহফিলের শেষ রাতে নিলামে চার কমলার দাম উঠল অর্ধ লাখ টাকা

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:55:12 am, Saturday, 10 October 2026
  • 15
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত একটা। মাহফিলে উপস্থিত সহস্রাধিক মুসল্লি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন বয়ান। প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তার বয়ান শেষে হঠাৎই মাদ্রাসার তহবিল সংগ্রহের জন্য এক হালি (চারটি) কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলেন শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তার কথা চিন্তা করে এই সাধারণ চারটি কমলা নিলামে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। ব্যতিক্রমী এই ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে। জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনুষ্ঠান ও নিলাম পর্ব লাইভ প্রচার হচ্ছিল।

প্রধান অতিথি মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী মাদ্রাসার সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে চারটি কমলা নিলামে তুললে উপস্থিত ও অনলাইনে থাকা লোকজনের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এই নিলামে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়ে কমলাগুলো কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। মাহফিলে অংশ নেওয়া শ্রোতারা জানান, ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলকে কেন্দ্র করে এমন দাতব্য নিলামের মূল উদ্দেশ্যই থাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা।

কারণ এ ধরনের দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়ে থাকে। শুধু কমলা নয়, ওই মাহফিলে আধা কেজি খেজুরও ১৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়। কমলা কিনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান জানান, তার বাবা মূলত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা চিন্তা করেই এই ফলগুলো কিনেছেন।

এ ছাড়া তিনি নিয়মিত এই প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য পাশে থাকেন এবং প্রতি বছর আরও ৩৬ হাজার টাকা করে নিয়মিত আর্থিক সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছেন। মরিচা মাদ্রাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদ্রাসার ফান্ডে সহযোগিতার জন্য কয়েক বছর ধরেই ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলামের রেওয়াজ রয়েছে। মাদ্রাসার প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা থেকেই দাতা ব্যক্তিরা চড়া দামে এসব ফল কিনে নেন বলে জানান তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কাউন্সিলর না থাকায় চরম ভোগান্তিতে নাগরিকরা

মাহফিলের শেষ রাতে নিলামে চার কমলার দাম উঠল অর্ধ লাখ টাকা

Update Time : 08:55:12 am, Saturday, 10 October 2026

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত একটা। মাহফিলে উপস্থিত সহস্রাধিক মুসল্লি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন বয়ান। প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তার বয়ান শেষে হঠাৎই মাদ্রাসার তহবিল সংগ্রহের জন্য এক হালি (চারটি) কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলেন শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তার কথা চিন্তা করে এই সাধারণ চারটি কমলা নিলামে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। ব্যতিক্রমী এই ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে। জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনুষ্ঠান ও নিলাম পর্ব লাইভ প্রচার হচ্ছিল।

প্রধান অতিথি মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী মাদ্রাসার সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে চারটি কমলা নিলামে তুললে উপস্থিত ও অনলাইনে থাকা লোকজনের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এই নিলামে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়ে কমলাগুলো কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। মাহফিলে অংশ নেওয়া শ্রোতারা জানান, ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলকে কেন্দ্র করে এমন দাতব্য নিলামের মূল উদ্দেশ্যই থাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা।

কারণ এ ধরনের দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়ে থাকে। শুধু কমলা নয়, ওই মাহফিলে আধা কেজি খেজুরও ১৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়। কমলা কিনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান জানান, তার বাবা মূলত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা চিন্তা করেই এই ফলগুলো কিনেছেন।

এ ছাড়া তিনি নিয়মিত এই প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য পাশে থাকেন এবং প্রতি বছর আরও ৩৬ হাজার টাকা করে নিয়মিত আর্থিক সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছেন। মরিচা মাদ্রাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদ্রাসার ফান্ডে সহযোগিতার জন্য কয়েক বছর ধরেই ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলামের রেওয়াজ রয়েছে। মাদ্রাসার প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা থেকেই দাতা ব্যক্তিরা চড়া দামে এসব ফল কিনে নেন বলে জানান তারা।