রাজশাহীর পুঠিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা ও জমি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে খেলার মাঠে সারিবদ্ধভাবে কলাগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নামে মূল্যবান জমিও রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। টাকা ও জমি ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় তারা এভাবে প্রতিবাদ করেন। ভুক্তভোগী মিলন হোসেন বলেন, তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রায় চার বছর সেখানে শিক্ষকতা করেছেন।
চাকরির জন্য তিনি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তাকে দেওয়া নিয়োগ ও যোগদানপত্র সঠিক নয় বলে জানতে পারেন। বর্তমানে চাকরি না থাকায় তিনি আর্থিক ও পারিবারিক সংকটে রয়েছেন। মিলন হোসেনের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার মাধ্যমে নিয়োগ সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও পুঠিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. ইলিয়াস হোসেন অভিযোগ করেন, তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে একটি রেজুলেশনে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
নিয়োগসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেওয়ার কারণে দাতা পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকারনামা করা হয়েছিল। পরে তাকে প্রাথমিক শাখায় চাকরিও দেওয়া হয়। তবে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
চাকরির নামে টাকা নেওয়া এবং জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।






















