ভূরাজনৈতিক চাপ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে ইরান। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় বাড়ছে পারস্পরিক সহযোগিতা। এতে পশ্চিমা নির্ভরতার বাইরে নতুন অংশীদারত্ব বলয় গড়ে তুলছে তেহরান। এর প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও।
একদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোর বারণ উপেক্ষা করে কিয়েভকে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের বারণ উপেক্ষা করে তাইপেকে সহযোগিতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরান ইস্যুতে চীন-রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে ক্রমাগত খবরদারি করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এমনকি সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও ইরানকে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন চাপের মধ্যেই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গভীর করছে ইরান। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়িয়ে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প অংশীদারত্ব গড়ছে তেহরান।
চীনের সঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ, নতুন প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইরান। এর মধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীনের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ইরান। সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি চীনের সমর্থন ও মানবিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেছে তেহরান। ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো প্ল্যাটফর্মেও বাড়ছে দুই দেশের সমন্বয়।
অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে ইরান। মস্কোর বৈঠকে সাইবার হামলা মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থনীতি থেকে নিরাপত্তা দুই ক্ষেত্রেই পশ্চিমা নির্ভরতার বাইরে একটি বিস্তৃত অংশীদারত্ব বলয় তৈরি করছে ইরান। মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা তেহরানের কৌশলগত অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। একই সঙ্গে তৈরি হতে পারে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।





















