আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৯%

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ, কমবে ভ্রমণের সময়

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:16:20 am, Friday, 2 October 2026
  • 7

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ, কমবে ভ্রমণের সময়

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ডিজেলচালিত ট্রেনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর মাধ্যমে দেশের রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেক।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০২৮ সালের মধ্যে এই রুটে ওভারহেড ক্যাটেনারি তার স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পাওয়ার সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১৬ সেট রোলিং স্টক কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সেটে অন্তত ছয়টি করে কোচ থাকবে।

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করা সম্ভব হলে রেলওয়ের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের প্রকল্পটি বৃহত্তর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি দেশের অন্যান্য রেলপথেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টঙ্গী-আখাউড়া রেলপথের ৯৭ কিলোমিটার অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে রেলওয়ে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। এর বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এদিকে, লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের ১৩১ কিলোমিটার অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ প্রকল্পে নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার উপযোগী ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থাও স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করিডোরে রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কাজ চলাকালেই বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে আখাউড়া-লাকসাম রুটে নতুন ডাবল লাইন চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-টঙ্গী অংশেও অতিরিক্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পাশাপাশি এর নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি তার স্থাপন এবং সব লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, প্রায় ৫২ কিলোমিটার রুটে চলাচলের জন্য যে রোলিং স্টকের কথা বলা হচ্ছে, সেটি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রার উপযোগী কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

রোলিং স্টকের ধরন, প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে শুরু থেকেই সুস্পষ্ট ধারণা এবং পরিকল্পনা থাকা জরুরি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেনের নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে পর্যটননগরী কক্সবাজারও এই আধুনিক রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবার প্রকাশ্য মাঠে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ, কমবে ভ্রমণের সময়

Update Time : 10:16:20 am, Friday, 2 October 2026

ডিজেলচালিত ট্রেনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর মাধ্যমে দেশের রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেক।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০২৮ সালের মধ্যে এই রুটে ওভারহেড ক্যাটেনারি তার স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পাওয়ার সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১৬ সেট রোলিং স্টক কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সেটে অন্তত ছয়টি করে কোচ থাকবে।

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করা সম্ভব হলে রেলওয়ের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের প্রকল্পটি বৃহত্তর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি দেশের অন্যান্য রেলপথেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টঙ্গী-আখাউড়া রেলপথের ৯৭ কিলোমিটার অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে রেলওয়ে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। এর বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এদিকে, লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের ১৩১ কিলোমিটার অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ প্রকল্পে নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার উপযোগী ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থাও স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করিডোরে রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কাজ চলাকালেই বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে আখাউড়া-লাকসাম রুটে নতুন ডাবল লাইন চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-টঙ্গী অংশেও অতিরিক্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পাশাপাশি এর নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি তার স্থাপন এবং সব লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, প্রায় ৫২ কিলোমিটার রুটে চলাচলের জন্য যে রোলিং স্টকের কথা বলা হচ্ছে, সেটি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রার উপযোগী কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

রোলিং স্টকের ধরন, প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে শুরু থেকেই সুস্পষ্ট ধারণা এবং পরিকল্পনা থাকা জরুরি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেনের নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে পর্যটননগরী কক্সবাজারও এই আধুনিক রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে পারে।