বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; দক্ষতা, যোগ্যতা, যোগাযোগ সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও চাকরির বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে ‘নো ইওর এমপ্লয়ার’ শীর্ষক ক্যারিয়ার সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সহযোগিতায় এবং ব্র্যাক ‘ক্যারিয়ার হাব’-এর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও আগ্রহ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগদাতারা কী ধরনের দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রত্যাশা করেন, সে বিষয়েও ধারণা রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে এবং নিজেদের প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন, যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন এবং পরিবর্তিত চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নুর আলম সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ রানা, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া, ব্র্যাক স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ক্যারিয়ার হাবের সেন্টার ম্যানেজার আজাদ মুহাম্মদ ফয়সাল এবং ট্রেনিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং অফিসার মো. রাব্বী হাসান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্রেইনার রওনক আরা। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের ইচআর ফিল্ড অপারেশন্সের সিনিয়র ম্যানেজার জয়ন্ত কুমার সরকার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের উত্তরবঙ্গ জোনের আঞ্চলিক প্রধান ফজলুল কবির। তাঁরা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডেন্স, ইন্টার্নশিপ ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
ক্যারিয়ার হাবের কার্যক্রম তুলে ধরে সেন্টার ম্যানেজার আজাদ মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ব্র্যাকের ক্যারিয়ার হাব একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’, যেখানে দক্ষতা যাচাই, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সেবা দেওয়া হয়। ২০২০ সালে ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে চালু হওয়া এ প্ল্যাটফর্ম তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, চাকরির বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা যাচাই ও নিবন্ধন করা হয়। ‘ক্যারিয়ার চ্যাট’ ও প্রাথমিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা, প্রস্তুতি ও প্রয়োজন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। চাকরির জন্য প্রস্তুতদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আর যাঁদের আরও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য কাস্টমাইজড পরিকল্পনা তৈরি করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে ট্রেনিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং অফিসার মো. রাব্বী হাসান বলেন, দেশের মোট বেকার জনসংখ্যার ৮৩ দশমিক ২ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ স্নাতক এখনো কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাব্বী হাসান বলেন, প্রতিবছর দেশের লাখো তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মসংস্থানের বাজারে প্রবেশ করেন। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, শ্রমবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ও কার্যকর ক্যারিয়ার নির্দেশনার অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়েন।
অন্যদিকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ খুঁজে পেতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। অনুষ্ঠানে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।























