ইউএস ওপেনে নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্রের টেলর টাউনসেন্ডকে ৬-৪, ৬-৩ গেমে পরাজিত করে টানা ১৮তম জয় তুলে নিয়েছেন বেলারুশের এই তারকা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ষষ্ঠবারের মতো ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের জায়গা নিশ্চিত করলেন দুইবারের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কা।
স্কোরলাইন দেখে ম্যাচটি সহজ মনে হলেও বাস্তবে লড়াইটা ছিল বেশ কঠিন। ৭৫ মিনিটের ম্যাচে দুই খেলোয়াড় মিলে ১০টি সার্ভিস ব্রেক দেখেছেন। দ্বিতীয় সেটে একসময় ৩-১ গেমে পিছিয়ে ছিলেন সাবালেঙ্কা। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে টানা পাঁচটি গেম জিতে ম্যাচ নিজের করে নেন তিনি। এই জয়ের ফলে ইউএস ওপেনে সাবালেঙ্কার টানা জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে পরপর দুটি শিরোপা জেতার পর নিউইয়র্কের এই গ্র্যান্ড স্লামে গত তিন বছর ধরেই অপরাজিত রয়েছেন ২৮ বছর বয়সি এই খেলোয়াড়। এর মাধ্যমে আরও একটি বিশেষ কীর্তিও গড়েছেন সাবালেঙ্কা। ২০১৬ সালে সেরেনা উইলিয়ামসের পর প্রথম নারী খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা ছয় আসরে সিঙ্গেলসের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠলেন তিনি। ইউএস ওপেনে টানা তিনবার শিরোপা জয়ের সর্বশেষ নজির সেরেনা উইলিয়ামসের।
সেই রেকর্ডে ভাগ বসাতে সাবালেঙ্কার প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি জয়। অর্থাৎ এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেরেনার মতোই টানা তিনবার ইউএস ওপেনের শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বেন তিনি। শেষ আটে সাবালেঙ্কার প্রতিপক্ষ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন লিন্ডা নোসকোভা। চেক প্রজাতন্ত্রের ষষ্ঠ বাছাই নোসকোভা শেষ ষোলোর ম্যাচে ইউক্রেনের মার্তা কোস্তিউককে ৭-৫, ৫-৭, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন।
তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে যেতে তাকে ছয়টি ম্যাচ পয়েন্ট কাজে লাগাতে হয়েছে। ইউএস ওপেনের হার্ড কোর্টে সাবালেঙ্কার ধারাবাহিকতা অবশ্য বেশ পুরোনো। ২০২০ সালের পর থেকে এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালের আগে আর বিদায় নিতে হয়নি তাকে। ফলে এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই রয়েছেন এই বেলারুশিয়ান তারকা। তবে এবারের ইউএস ওপেনের শিরোপা সাবালেঙ্কার কাছে বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।
বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে হলে নিউইয়র্কে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার ইউএস ওপেনে সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে চান সাবালেঙ্কা। একই সঙ্গে ২০২২ সালের পর প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ছাড়া মৌসুম শেষ করার শঙ্কাও এড়াতে মরিয়া তিনি।



















