অভিনয় জগতে নতুন মুখ হলেও নিজের প্রতিভা ও স্বকীয়তা দিয়ে ইতিমধ্যে দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা একটি জায়গা করে নিয়েছেন মালাইকা চৌধুরী। ক্যারিয়ারের শুরুতেই তার অভিনীত নাটকগুলো কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
কাজের প্রতি নিষ্ঠা, পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়ের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলার প্রত্যয়Ñসবকিছু নিয়ে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন এই প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে? এখন সেমিস্টার ফাইনাল চলছে। তাই আপাতত পড়াশোনা নিয়েই একটু বেশি ব্যস্ত সময় কাটছে।
আপনার সম্প্রতি প্রকাশিত ‘আমার রাজ্যে তুমি’ নাটক কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে, দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন? আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো লাগছে। দর্শক গল্পটা পছন্দ করেছেন। আমার ‘বৃষ্টি’ চরিত্রটিকেও অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। অনেকে তো নাটকটির দ্বিতীয় পর্বও চাইছেন। নতুন একজন অভিনেত্রী হিসেবে দর্শকের এত ভালোবাসা পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
আপনার অভিনীত ৫ নাটক কোটি ভিউয়ের ঘরে। কেমন লাগছে? এই ধারাবাহিক সফলতা একজন অভিনেত্রী হিসেবে আপনাকে কতটা অনুপ্রাণিত করে? অবশ্যই অনেক ভালো লাগছে। দর্শকের এত ভালোবাসা পেয়ে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত। এই ভালোবাসা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আশা করি, দর্শক এভাবেই আমাকে ভালোবাসবেন এবং সমর্থন করে যাবেন। শিশু বয়স থেকেই মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন ছিল।
এই অঙ্গনে পা রাখার পেছনে বোন মেহজাবীন চৌধুরীর ভূমিকা কতটা এবং তার কাছ থেকে সবচেয়ে বড় কী শিখেছেন? আসলে ছোটবেলা থেকে মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন ছিল না। আপুকে পর্দায় দেখতে সব সময়ই খুব ভালো লাগত। অনেকেই জিজ্ঞেস করতেন, আমি কবে কাজ করব; কিন্তু তখন এসব নিয়ে কখনো সেভাবে ভাবিনি। আপু ভীষণ পরিশ্রমী। তার কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি শিখেছি, সেটি হলো কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত কোনো শিল্পীর স্বজন হলে দর্শকমহলে শুরুতেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি হয়। ‘মেহজাবীনের বোন’ পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কেবল ‘মালাইকা চৌধুরী’ হিসেবে নিজেকে চেনানোর চ্যালেঞ্জটিকে কীভাবে দেখছেন? আমি আসলে নিজের মতো করে কাজ করে যেতে চাই। অল্প অল্প করে, সময় নিয়ে সামনে এগোতে চাই। দর্শকের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে নিজের কাজের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চাই।
পড়াশোনা ও অভিনয় দুটো একসঙ্গে সামলানো কতটা চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে? অনেক চ্যালেঞ্জিং। পড়াশোনা ও অভিনয় একসঙ্গে ব্যালান্স করা সত্যিই কঠিন। তাই এখন কাজ একটু কম করছি, মূলত সেমিস্টার ব্রেকে সময় পেলে কাজ করি। আপাতত পড়াশোনাটা আগে শেষ করতে চাই। এখনকার সময়ে ওটিটি ও টিভিতে নানা ধরনের ভিন্নধর্মী কাজ হচ্ছে। অভিনয় করার ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্ট বা গল্প নির্বাচনের সময় কোন বিষয়গুলোয় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন?
আমি ভালো গল্পকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই। এমন গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেটা দর্শকের ভালো লাগবে এবং তারা মনে রাখবেন। ভবিষ্যৎ কাজের তালিকায় কোনো বিশেষ চরিত্র বা ঘরানাÑরোমান্টিক, থ্রিলার বা অফবিটÑপছন্দ আছে কি, যেখানে নিজেকে পরখ করে দেখতে চান? আমি সব ধরনের কাজই করতে চাই এবং ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে দেখতে চাই।
তবে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না, ধীরে ধীরে এগোতে চাই। আজ যদি অভিনয়ে না আসতেন, নিজেকে কোথায় দেখতেন? আমার পড়াশোনা এখনো শেষ হয়নি, বর্তমানে অষ্টম সেমিস্টারে আছি। তাই অভিনয়ে না এলে কোথায় থাকতাম, সেটা হয়তো পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরই ভাবতাম। আপনার পছন্দের বা অনুকরণীয় এমন কোনো দেশি-বিদেশি অভিনেত্রী আছেন, যার অভিনয় আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে?
আমার অনেকের অভিনয়ই ভালো লাগে। প্রত্যেকের মধ্যেই আলাদা আলাদা ভালো দিক আছে, তাই একজনকে বেছে নেওয়া কঠিন। তবে অবশ্যই আমার সবচেয়ে পছন্দের অভিনেত্রী আমার বোন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিক থেকেই অনেক বেশি। ট্রলিং বা অনাকাক্সিক্ষত সমালোচনা কীভাবে সামলান? এসব বিষয় আমাকে খুব একটা প্রভাবিত করে না।
আমি নিজের কাজের দিকেই মনোযোগ রাখতে চাই এবং নিজের মতো করে কাজ করে যেতে চাই। গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে অবশ্যই সেটা ইতিবাচকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করি। স্বপ্নের কোন চরিত্র আছে, যা করতে চান? নির্দিষ্ট কোনো স্বপ্নের চরিত্র এখনো নেই। গল্প ভালো হলে সব ধরনের চরিত্রেই নিজেকে পরখ করে দেখতে চাই। ভবিষ্যতে ওটিটি বা চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছে কতটুকু?
এখনো এভাবে আলাদা করে ভাবিনি। যেহেতু আমি একেবারেই নতুন, তাই তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে চাই। আগামী পাঁচ বছর পর শোবিজে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান? দর্শক যদি এভাবেই আমাকে সমর্থন করে যান এবং তাদের দোয়া ও ভালোবাসা পাই, তাহলে আশা করি পাঁচ বছর পর নিজেকে একটি ভালো অবস্থানে দেখতে পারব। তবে ধীরে ধীরে ভালো কাজ করেই সেখানে পৌঁছাতে চাই।
















