আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩১%

পর্যটক খরা: চার মাস ধরে বেতন-ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:53:41 am, Saturday, 5 September 2026
  • 52

পর্যটক খরা: চার মাস ধরে বেতন-ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সমুদ্র আছে, ঢেউ আছে, আছে বালুকাবেলার বিস্তীর্ণ সৌন্দর্য। আছে দোকানপাট, আছে বাহারি পণ্যের পসরা সাজানো। প্রতিদিনই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য মেলে কুয়াকাটায়। অথচ প্রকৃতির সেই চিরচেনা সৌন্দর্যের মাঝেও যেন প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা।

সৈকতে নেই আগের মতো পর্যটকের ভিড়, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় নেই কাঙ্ক্ষিত ব্যস্ততা। পর্যটননির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে মন্দাভাব। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত চার মাস ধরে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটকবাহী যানবাহন, ফটোগ্রাফি, বিচকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন পর্যটনসেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় কমে গেছে।

অনেক ব্যবসায়ী এখন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নিয়মিত ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও হয়ে উঠেছে বড় চাপ। কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আবাসিক হোটেল ও মোটেল। পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এ খাতে। ছুটির দিনেও অনেক হোটেলের প্রত্যাশিত সংখ্যক কক্ষ বুকিং হচ্ছে না, এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবাসিক হোটেল সী পার্কের ম্যানেজার হানিফ ফরাজী বলেন, পর্যটক কম থাকলেও হোটেলের খরচ কমে না। কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়, বিদ্যুৎ ও পানির বিল দিতে হয়, ভবন ও আসবাবপত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় এখন মাসের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে যেসব কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করেন, তাদের আয়ও কমে গেছে।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মচারী কমিয়ে পরিচালন ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চললে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। পর্যটক কমলে কমে যায় বহু মানুষের আয় একজন পর্যটক কুয়াকাটায় এলে শুধু হোটেল ব্যবসায়ীর আয় হয় না। হোটেলের কর্মচারী, রেস্তোরাঁকর্মী, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালক, ভ্যানচালক, মোটরসাইকেল চালক, ফটোগ্রাফার, পর্যটনকেন্দ্রের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় খাবার ও পণ্য বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে যুক্ত হন।

ফলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে। কুয়াকাটা সৈকতের ফটোগ্রাফার রিপন বলেন, আগে বিকেল হলেই পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত থাকতে হতো। এখন অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়। পর্যটক কম থাকায় ছবি তোলার কাজও কমে গেছে। একই কথা বলছেন পর্যটক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চালকরাও। তাদের মতে, পর্যটক কম থাকলে দিনে একাধিক ট্রিপ দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

ফলে সরাসরি কমে যায় তাদের দৈনিক আয়। কুয়াকাটায় পর্যটন মৌসুমে সাধারণত ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা থাকে ভালো আয়ের। সেই আয়ের ওপর নির্ভর করেই বছরের অন্য সময়ের খরচ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। কিন্তু টানা কয়েক মাস পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকায় সেই হিসাবও এলোমেলো হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসার মন্দা শুধু বর্তমান আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে না, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটাকে শুধু সমুদ্র সৈকত কেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যটকদের কুয়াকাটায় দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি গঙ্গামতি, ঝাউবন, লেম্বুর চর, শুঁটকি পল্লি, রাখাইন সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার ও উপকূলীয় জীবনযাত্রাকে পর্যটন প্যাকেজের আওতায় আনার দাবি তাদের।

তাদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো এবং সেবার মান উন্নত করাও জরুরি। সৈকতের ছাতা বেঞ্চ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “পর্যটনকে একটি সমন্বিত শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো দরকার। দেশ-বিদেশে কুয়াকাটার সম্ভাবনাকে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

” কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্রসৈকত নয়, এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে পর্যটন খাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যটকের পদচারণা বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে। আর পর্যটক কমলে তার বিপরীত প্রভাব পড়ে। তাই গত চার মাসের পর্যটক-খরা শুধু হোটেল বা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা।

পর্যটন কর্মী জনি আলমগীর বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার কিছুসংখ্যক পর্যটক থাকলেও অন্যান্য দিন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে কুয়াকাটা। পর্যটকদের এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে হলে সারা বছর পর্যটক আকর্ষণের জন্য পর্যটন উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক আয়োজন করতে হবে। কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পর্যটন খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

নতুন পর্যটন আকর্ষণ সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বছরজুড়ে পর্যটক আকর্ষণের পরিকল্পনা করতে হবে। সমুদ্রের ঢেউ প্রতিদিনই কুয়াকাটার তীরে আছড়ে পড়ছে। সূর্যও প্রতিদিন তার নিয়মে উদয়-অস্ত হচ্ছে। প্রকৃতি তার সৌন্দর্যে কোনো কার্পণ্য করছে না। এখন সেই সৌন্দর্যকে ঘিরে পর্যটনের হারানো ব্যস্ততা ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, পর্যটক ফিরলে ফিরবে কুয়াকাটার ব্যবসার গতি। আর ব্যবসার গতি ফিরলে হাসি ফিরবে পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের মুখে। এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে হোটেল চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

আগত পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে পারলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। তবে আগামী অক্টোবর মাস থেকে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের এ মন্দা কেটে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ঝালকাঠির রাজাপুরের গালুয়া বাজারে ১৪৪ ধারা জারি

পর্যটক খরা: চার মাস ধরে বেতন-ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা

Update Time : 02:53:41 am, Saturday, 5 September 2026

সমুদ্র আছে, ঢেউ আছে, আছে বালুকাবেলার বিস্তীর্ণ সৌন্দর্য। আছে দোকানপাট, আছে বাহারি পণ্যের পসরা সাজানো। প্রতিদিনই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য মেলে কুয়াকাটায়। অথচ প্রকৃতির সেই চিরচেনা সৌন্দর্যের মাঝেও যেন প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা।

সৈকতে নেই আগের মতো পর্যটকের ভিড়, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় নেই কাঙ্ক্ষিত ব্যস্ততা। পর্যটননির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে মন্দাভাব। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত চার মাস ধরে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটকবাহী যানবাহন, ফটোগ্রাফি, বিচকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন পর্যটনসেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় কমে গেছে।

অনেক ব্যবসায়ী এখন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নিয়মিত ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও হয়ে উঠেছে বড় চাপ। কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আবাসিক হোটেল ও মোটেল। পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এ খাতে। ছুটির দিনেও অনেক হোটেলের প্রত্যাশিত সংখ্যক কক্ষ বুকিং হচ্ছে না, এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবাসিক হোটেল সী পার্কের ম্যানেজার হানিফ ফরাজী বলেন, পর্যটক কম থাকলেও হোটেলের খরচ কমে না। কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়, বিদ্যুৎ ও পানির বিল দিতে হয়, ভবন ও আসবাবপত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় এখন মাসের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে যেসব কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করেন, তাদের আয়ও কমে গেছে।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মচারী কমিয়ে পরিচালন ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চললে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। পর্যটক কমলে কমে যায় বহু মানুষের আয় একজন পর্যটক কুয়াকাটায় এলে শুধু হোটেল ব্যবসায়ীর আয় হয় না। হোটেলের কর্মচারী, রেস্তোরাঁকর্মী, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালক, ভ্যানচালক, মোটরসাইকেল চালক, ফটোগ্রাফার, পর্যটনকেন্দ্রের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় খাবার ও পণ্য বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে যুক্ত হন।

ফলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে। কুয়াকাটা সৈকতের ফটোগ্রাফার রিপন বলেন, আগে বিকেল হলেই পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত থাকতে হতো। এখন অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়। পর্যটক কম থাকায় ছবি তোলার কাজও কমে গেছে। একই কথা বলছেন পর্যটক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চালকরাও। তাদের মতে, পর্যটক কম থাকলে দিনে একাধিক ট্রিপ দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

ফলে সরাসরি কমে যায় তাদের দৈনিক আয়। কুয়াকাটায় পর্যটন মৌসুমে সাধারণত ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা থাকে ভালো আয়ের। সেই আয়ের ওপর নির্ভর করেই বছরের অন্য সময়ের খরচ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। কিন্তু টানা কয়েক মাস পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকায় সেই হিসাবও এলোমেলো হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসার মন্দা শুধু বর্তমান আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে না, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটাকে শুধু সমুদ্র সৈকত কেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যটকদের কুয়াকাটায় দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি গঙ্গামতি, ঝাউবন, লেম্বুর চর, শুঁটকি পল্লি, রাখাইন সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার ও উপকূলীয় জীবনযাত্রাকে পর্যটন প্যাকেজের আওতায় আনার দাবি তাদের।

তাদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো এবং সেবার মান উন্নত করাও জরুরি। সৈকতের ছাতা বেঞ্চ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “পর্যটনকে একটি সমন্বিত শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো দরকার। দেশ-বিদেশে কুয়াকাটার সম্ভাবনাকে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

” কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্রসৈকত নয়, এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে পর্যটন খাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যটকের পদচারণা বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে। আর পর্যটক কমলে তার বিপরীত প্রভাব পড়ে। তাই গত চার মাসের পর্যটক-খরা শুধু হোটেল বা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা।

পর্যটন কর্মী জনি আলমগীর বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার কিছুসংখ্যক পর্যটক থাকলেও অন্যান্য দিন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে কুয়াকাটা। পর্যটকদের এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে হলে সারা বছর পর্যটক আকর্ষণের জন্য পর্যটন উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক আয়োজন করতে হবে। কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পর্যটন খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

নতুন পর্যটন আকর্ষণ সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বছরজুড়ে পর্যটক আকর্ষণের পরিকল্পনা করতে হবে। সমুদ্রের ঢেউ প্রতিদিনই কুয়াকাটার তীরে আছড়ে পড়ছে। সূর্যও প্রতিদিন তার নিয়মে উদয়-অস্ত হচ্ছে। প্রকৃতি তার সৌন্দর্যে কোনো কার্পণ্য করছে না। এখন সেই সৌন্দর্যকে ঘিরে পর্যটনের হারানো ব্যস্ততা ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, পর্যটক ফিরলে ফিরবে কুয়াকাটার ব্যবসার গতি। আর ব্যবসার গতি ফিরলে হাসি ফিরবে পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের মুখে। এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে হোটেল চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

আগত পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে পারলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। তবে আগামী অক্টোবর মাস থেকে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের এ মন্দা কেটে যাবে।